এসিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ কাজ হতে পারে

বাংলাদেশে রং তৈরিতে আগ্রহী একজোনোবেল

.

ভারতের অন্যতম রং উৎপাদক প্রতিষ্ঠান একজোনোবেল ইন্ডিয়া বাংলাদেশ থেকেই রং প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ দেশি প্রতিষ্ঠানটি এসিআই লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজটি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিকভাবে টোলিং এগ্রিমেন্টের (চুক্তি) আওতায় বাংলাদেশে রং প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। টোলিং চুক্তির মানে হলো, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করা হবে। আর অন্য প্রতিষ্ঠান ওই কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে পণ্য তৈরি করবে। অর্থাৎ রঙের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল একজোনোবেল ভারত থেকে সরবরাহ করবে। আর ওই কাঁচামাল দিয়ে বাংলাদেশে রং প্রস্তুত করবে এসিআই।
এই প্রক্রিয়ায় সফলতা পেলে বাংলাদেশে আলাদা একটি রং প্রস্তুতকারী কারখানাই প্রতিষ্ঠা করবে একজোনোবেল। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই কাজটি করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির।
সম্প্রতি ভারতীয় পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
একজোনোবেল ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়কুমার কৃষ্ণস্বামী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রঙের বাজার প্রায় দেড় হাজার কোটি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা)। সে কারণেই এই বাজারটি খুবই সম্ভাবনাময়। যদি এর ৫ শতাংশও ধরতে পারি, তাহলে আমরা সে দেশে নিজস্ব কারখানা স্থাপনের সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’ সোমবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
একজোনোবেল ইন্ডিয়ার রঙের ব্র্যান্ড হচ্ছে সিক্কেনস এবং ডুলাক্স। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি রং বাংলাদেশে বাজারজাত করছে এসিআই লিমিটেড। তবে এ দেশে একজোনোবেলের রং প্রস্তুতের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে এসিআই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা ভাবলেও ভারতে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিকেই মনোযোগ প্রতিষ্ঠানটির। কারণ হিসেবে জয়কুমার কৃষ্ণস্বামী বলেন, গত তিন বছরে তারা ২৪০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গোয়ালিয়র কারখানার মোট উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ৩৩ শতাংশ এখন ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে একজোনোবেলের নিট মুনাফা বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ। মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ১৮ লাখ রুপি। আগের বছরের এই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৩৪ কোটি ৮১ লাখ রুপি। এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট বিক্রিও বেড়েছে। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে বিক্রি হয়েছে ৬২৭ কোটি ৯৩ লাখ রুপি, সেখানে গত বছরের বিক্রি ছিল ৫৬১ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।