ভিওলা কিনে নিল রূপচাঁদা

.

চালু হওয়ার চার বছরের মাথায় বিক্রি হয়ে গেল ভিওলা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী বিদেশি কোম্পানি সেভেন সার্কেল বিটুমিন অ্যান্ড এডিবল অয়েলের বাংলাদেশের কারখানাটি। বাগেরহাটের মোংলায় অবস্থিত কারখানাটি কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (বিইওএল) নামের আরেক বিদেশি কোম্পানি, যারা রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বাজারজাত করছে। প্রায় দেড় শ কোটি টাকায় বিইওএল কারখানাটি কিনেছে।
নতুন কারখানা কেনার মাধ্যমে নিজেদের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়েছে বিইওএল। মংলায় অবস্থিত ভিওলা ব্র্যান্ডের কারখানাটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১ হাজার টন। আর বিইওএলের রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের কারখানাটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৬০০ টন। এখন দুটি কারখানা এক মালিকানায় চলে আসায় বিইওএলের উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ টন।
বিইওএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন বিনিয়োগের পর এখন সয়াবিন তেলের নতুন একটি ব্র্যান্ড বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের বাজারে মার্কেট শেয়ার বা অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে কোম্পানিটি। কিনে নেওয়া কারখানায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিইওএলের কর্মকর্তারা। তখন বাজারে খোলা বা লুজ তেলও বিক্রি করবে কোম্পানিটি। এত দিন শুধু বোতলজাত তেল বিক্রি করত বিইওএল।
বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের বিপণন বিভাগের প্রধান শোয়েব মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি নতুন কারখানা করে আমাদের উৎপাদনে যেতে কয়েক বছর সময় লাগত। কিন্তু ভিওলার কারখানাটি আমরা তৈরি অবস্থায় পেয়েছি। এতে দুই পক্ষেরই লাভ হয়েছে।’
বিক্রি হয়ে যাওয়া ভিওলা ব্র্যান্ডের তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেভেন সার্কেল অয়েলের মালিকানায় ছিল হংকংভিত্তিক শুন শিং গ্রুপ, বিভিন্ন দেশে যাদের সিমেন্ট ও সিমেন্টের কাঁচামালের ব্যবসা রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটির সেভেন রিংস ব্র্যান্ডের সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে। ভিওলার কারখানাটি বিক্রি করে দিলেও এ দেশে সিমেন্ট ব্যবসা চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।
ভোজ্যতেল খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নানা কারণে ভিওলার কারখানাটি বিপুল অঙ্কের লোকসান দেয়। এ কারণে মালিকপক্ষ কারখানাটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিল। অন্যদিকে রূপচাঁদা তাদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে নতুন বিনিয়োগের চিন্তা করছিল। শেষ পর্যন্ত দরদামে মিলে যাওয়ায় কারখানাটির মালিকানা হাতবদল হয়।
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশ বোতলজাত অবস্থায় বিক্রি করে কোম্পানিগুলো। বোতলজাত তেলের বাজারে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের মার্কেট শেয়ার প্রায় সমান। এ তিন কোম্পানির হাতেই প্রায় ৯০ শতাংশ বাজারের নিয়ন্ত্রণ। তবে নতুন করে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে রূপচাঁদা এ বাজারে তাদের দখল আগামী দুই বছরে ৪৫ শতাংশে নিতে চায় বলে জানান শোয়েব মো. আসাদুজ্জামান।
বিইওএল ভারতের আদানি গ্রুপ ও সিঙ্গাপুরের উইলমার ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি। চীন ও ভারতে তাদের ভোজ্যতেলের ব্র্যান্ড ১ নম্বর অবস্থানে আছে। ১৯৯৩ সালে তারা বাংলাদেশে আসে। এখন তারা রূপচাঁদা ছাড়াও মিজান ব্র্যান্ডের পাম তেল, ফরচুন ব্র্যান্ডের চালের কুঁড়ার তেল, কিং ব্র্যান্ডের সানফ্লাওয়ার অয়েল, অলিভয়েলা ব্র্যান্ডের অলিভ অয়েল বাজারজাত করছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তাদের বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ শতাংশের বেশি। এ বছর টার্নওভার ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হতে পারে। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩৫ শতাংশ। বাংলাদেশের এফএমসিজি (ফাস্ট মুভিং কনজ্যুমার গুডস) বাজারে এটাই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
শোয়েব মো. আসাদুজ্জামান জানান, সেভেন সার্কেলের কারখানা কিনে নিলেও ভিওলা ব্র্যান্ডের তেলটি বাজারে রাখবে তারা। তবে অলিন ব্র্যান্ডের পাম তেল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর বদলে লাকি ব্র্যান্ড নামে একটি পাম অলিন বাজারে ছাড়বে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল।
এদিকে কারখানা বিক্রির বিষয়ে শুন শিং গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নিজেদের মূল ব্যবসার দিকে নজর দিতে তারা ভোজ্যতেল থেকে সরে গেছে।