সুদ হার বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গ্রাহক মেয়াদ পূর্তির আগে ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে ‘আর্লি সেটেলমেন্ট ফি’ বা অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার্স সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, যেসব মেয়াদি ঋণের সুদ হার (ইসলামী ব্যাংকের পরিভাষায় বিনিয়োগের ওপর মুনাফার হার) পরিবর্তনশীল, সে ক্ষেত্রে সুদ বা মুনাফার হার বৃদ্ধি করতে হলে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরে গ্রাহককে এক মাস সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশের সঙ্গে গ্রাহককে হালনাগাদ দায়সহ নতুন পরিশোধ সূচি দিতে হবে। সুদ বা মুনাফার হার বৃদ্ধির কারণে গ্রাহক যদি এক মাসের মধ্যে ঋণ বা বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে চান, তবে ‘আর্লি সেটেলমেন্ট ফি’ বা অতিরিক্ত কোনো ফি আদায় ব্যতীত পরিশোধের সুযোগ পাবেন। চলতি ঋণ বা ডিমান্ড লোনেও অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরির জন্য বিলম্ব ফি বা দণ্ড সুদ বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে সেসব গ্রাহক প্রকৃতই অসুবিধায় আছেন, তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব নীতিমালার আলোকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই এ ধরনের বিলম্ব ফি বা ক্ষতিপূরণ ওই ঋণ বা বিনিয়োগের জন্য প্রযোজ্য সুদ বা মুনাফার হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশের বেশি হবে না।
একই সঙ্গে পরিপত্রে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে ফাঁকা চেক জামানত হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।