
চট্টগ্রাম বন্দর চত্বরে চীন থেকে আনা এক কনটেইনারের চালান খুলে ১ কোটি ৬৮ লাখ শলাকা সিগারেট পাওয়া গেছে। চালানটিতে সুতা থাকার কথা ছিল। সন্দেহ থেকে গতকাল সোমবার বড় এই চালান জব্দ করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটিতে থাকা পাঁচটি বিদেশি ব্র্যান্ডের ৮ লাখ ৪১ হাজার প্যাকেট সিগারেটের মূল্য ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সঠিক নিয়মে আমদানি করলে এই সিগারেটে শুল্ক দিতে হতো ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুল্ককরসহ জব্দ করা সিগারেটের মূল্য দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
যেভাবে ধরা পড়ল: চালানটির আমদানিকারক হিসেবে পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের কারখানা তিয়ানি আউটডোরের নাম নথিতে উল্লেখ করা হয়। তাদের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ক্রনি শিপিং করপোরেশন এটি খালাস করার কথা।
সন্দেহ থেকে চালানটি জব্দের বর্ণনা তুলে ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে এই চালানটি শুল্কায়নের জন্য গত বৃহস্পতিবার ক্রনি শিপিং করপোরেশনের পরিবর্তে নথি জমা দেয় স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেইটের কর্মচারী জহিরুল হক। এক প্রতিষ্ঠানের নথি আরেক প্রতিষ্ঠানের কর্মী জমা দেওয়ায় শুল্কায়নের সময় সন্দেহ হয়। সন্দেহ থেকে চালানটি যাচাই করে দেখা শুরু করি আমরা। এরই মধ্যে জহিরুল হক সটকে পড়েন। তাতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়।’
মিজানুর রহমান গত শনিবার স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেইটের মালিককে ডেকে পাঠান। তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর চালানটির খালাস স্থগিত করে দেন তিনি। একই সময়ে ঈশ্বরদী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপকের কাছে শুল্কমুক্ত আমদানির এই চালানটির আমদানির অনুমতি রয়েছে কি না, তা জানতে চিঠি দেন। একই দিন ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে জানানো হয়, শুল্কমুক্ত আমদানির জন্য এই চালানটির আমদানির অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট দেওয়া হয়নি। দেরি না করে ওই দিনই বন্দরকে চিঠি দেয় কাস্টমস, যাতে কনটেইনারটি সরেজমিন খুলে দেখার জন্য সুবিধাজনক স্থানে রাখা হয়। কাস্টমস বন্দরকে চিঠি দেওয়ার পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরও চালানটি নিয়ে যাচাই–বাছাই শুরু করে।
দুই সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার কনটেইনার খুলে সব কার্টনে সিগারেট পাওয়া যায়। অথচ আমদানি নথিতে ছিল, চীন থেকে প্রায় ১৫ টন ওজনের ১৬ হাজার ৩২০ ডলার মূল্যের সুতা আনা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. বশীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি চীনা মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁবু তৈরি করে রপ্তানি করে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার মো. শরফুদ্দীন মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় সিগারেট আনার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।