আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) উপদেষ্টা কবির আহমেদ
আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) উপদেষ্টা কবির আহমেদ

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন

শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

দেশীয় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের সুরক্ষায় শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)। এ ছাড়া মোট বিলের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার এবং স্থানীয় লেনদেনে বাংলাদেশি মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এসব দাবিতে আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করেছে সংগঠনটি। মানববন্ধনে বাফার সদস্য ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতের শতাধিক ব্যবসায়ী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে দেশীয় উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগ করে দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও স্থানীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা তৈরি করেছেন। এ অবস্থায় শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ের লাইসেন্স দেওয়া হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন।

বাফার উপদেষ্টা কবির আহমেদ বলেন, তাঁরা বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধী নন। তবে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে নীতিগত পরিবর্তনের আগে তার অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের মতো ৬০ শতাংশ দেশীয় মালিকানা বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

কবির আহমেদ আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু কত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে, তা বিবেচনা করলে হবে না। এর বিপরীতে কত কর্মসংস্থান হবে ও কী প্রযুক্তি আসবে, স্থানীয়ভাবে কত মূল্য সংযোজন হবে এবং ভবিষ্যতে মুনাফা, ব্যবস্থাপনা মাশুল ও অন্যান্য সেবা বাবদ কত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যেতে পারে, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাফার উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা শুধু বিদেশি মালিকানার প্রশ্ন নয়; বরং এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রভাব, দেশীয় মূল্য সংযোজন ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত।’

উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি

বাফার পক্ষ থেকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস এজেন্টদের মোট বিলের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

কবির আহমেদ বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের মোট বিলের পুরো অর্থ তাদের আয় বা মুনাফা নয়। এর একটি অংশ এয়ারলাইন, শিপিং লাইন, ক্যারিয়ার ও অন্যান্য সেবাদাতার প্রাপ্য। তাদের পক্ষ থেকে এসব আদায় করে পরিশোধ করতে হয়। ফলে মোট বিলের ওপর কর আরোপ করা হলে, বিশেষ করে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধন ও নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়।

কবির আহমেদের মতে, প্রকৃত আয় ও মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করকাঠামো নির্ধারণ করা উচিত।

টাকায় লেনদেনের দাবি

দেশের ভেতরে যেসব ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং সেবার লেনদেন বাংলাদেশি মুদ্রায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে টাকায় বিল ও লেনদেনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বাফা।

কবির আহমেদ বলেন, যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার অপরিহার্য নয়, সেখানে ডলারের ব্যবহার কমানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য তা সহায়ক হবে।

আধুনিক লাইসেন্সিং বিধিমালার দাবি

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতের জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ ও শিল্পবান্ধব লাইসেন্সিং বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাফা। সংগঠনটির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিধিমালা আধুনিকায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত সমন্বিত বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।

বাফা বলেছে, নতুন বিধিমালার লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসা জটিল করা নয়; বরং নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা, পেশাগত মানোন্নয়ন, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা ও দেশের লজিস্টিকস সক্ষমতা বাড়ানো।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাঁরা বিশেষ সুবিধা বা সংরক্ষিত বাজার চান না। তাঁরা চান, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রতিযোগিতার পরিবেশ ও টেকসই দেশীয় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্প।

বাফার ভাষ্য, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্প শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়; আমদানি-রপ্তানি, সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সক্ষমতার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক আছে।

দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধনে।