চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো–নামানোয় নতুন রেকর্ড

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক কনটেইনার ওঠানো–নামানোর রেকর্ড হয়েছে। আর এই রেকর্ড হয়েছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) হাতে নেওয়ার দুই মাসের মাথায়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে টার্মিনালটির চারটি জেটি ব্যবহার করে জাহাজ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ৫১৭ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়েছে। মাসভিত্তিক কনটেইনার ওঠানো–নামানোয় এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত জানুয়ারিতে। জানুয়ারিতে টার্মিনালটিতে ওঠানো–নামানো হয় ১ লাখ ১৮ হাজার একক কনটেইনার, যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সংখ্যক কনটেইনার ওঠানো–নামানোর পাশাপাশি কনটেইনার পরিবহনেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর আগস্টে এই টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়েছিল ৯৬ হাজার। সেই হিসাবে গত বছরের আগস্টের তুলনায় গত আগস্টে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

জানতে চাইলে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর টার্মিনালটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। টার্মিনালে জাহাজের গড় অবস্থান সময়ও কমে এসেছে। পরিচালনা দক্ষতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর রেকর্ড হয়েছে।

বন্দরের কনটেইনার টার্মিনালে মূলত জাহাজ থেকে আমদানি কনটেইনার ক্রেনের সাহায্যে নামানো হয়। আবার রপ্তানি কনটেইনার একইভাবে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। এ কাজ দক্ষভাবে করা গেলে কনটেইনার ওঠানো–নামানো বাড়ানো সম্ভব।

বন্দরের সবচেয়ে অত্যাধুনিক এই টার্মিনাল ২০০৭ সালে আংশিক এবং ২০১৫ সালে পুরোদমে চালু হয়। শুরু থেকে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। দরপত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ৭ জুলাই থেকে এটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড। চিটাগং ড্রাই ডক দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাস অর্থাৎ গত জুলাইয়ে টার্মিনালটিতে এক লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়েছিল।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নিউমুরিং টার্মিনালে এখন পর্যন্ত এক বছরে সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়েছে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে। এই সময়ে টার্মিনালটিতে ১২ লাখ ৮১ হাজার কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়। তবে গত আগস্টে কনটেইনার পরিবহনের হিসাব তুলনা করলে টার্মিনালটিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো সম্ভব।

বর্তমানে দেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় থাকা এই টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন প্রথম আলোকে বলেন, নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান সিডিডিএল প্রমাণ করেছে, দেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায়ও নিউমুরিং টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো–নামানোয় দক্ষতা দেখানো সম্ভব।