
আমাদের মুদ্রার মান আশপাশের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বেশ শক্তিশালী হয়ে গেছে। অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় সেটি হয়েছিল। তবে করোনার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান অবমূল্যায়ন করা দরকার। এটি হলে রপ্তানিকারকেরা ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষিতে এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে আমদানিকারকেরা টাকার মান অবমূল্যায়ন করলেও খুব বেশি সমস্যায় পড়বেন না। কারণ, তেলের দাম পড়ে গেছে। তা ছাড়া জ্বালানি আমদানিতে আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। সেখানে যেহেতু সাশ্রয় হবে, সেই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে রপ্তানিকারকদের দেওয়া যেতে পারে। করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশা করছি বাজেটে এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা থাকবে।
করোনার কারণে ইতিমধ্যে ব্যবসা ৩০ শতাংশ কমে গেছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে। আবার করোনা দীর্ঘ মেয়াদে থাকলে মানুষ খুব শিগগির আগের মতো কেনাকাটা করবে, এমন আশা করা যায় না। এ রকম পরিস্থিতি সারা দুনিয়ার মানুষ কেবল অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার জন্যই অর্থ খরচ করে। তাই উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ বাজেটে রাখা যেতে পারে।
করোনার কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাতের নানা রকম ঘাটতি প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় রকমের বিনিয়োগ দরকার। সে জন্য বাজেটে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় আকারের বরাদ্দ লাগবে। শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই সঙ্গে কার্যকরভাবে তা যেন খরচ করা হয়, সেটির নজরদারিও লাগবে। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তায় বিনিয়োগ দরকার। সরবরাহব্যবস্থা আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সেখানে জোর দিতে হবে। কৃষকেরা যেন তাঁদের পণ্যের ন্যায্য দাম পান, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ, ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকেরা আগ্রহ হারাবেন।
করোনার কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাজেটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। জাপান সরকার তার দেশের ব্যবসায়ীদের চীন থেকে নিজের দেশ কিংবা অন্য যেকোনো দেশে কারখানা স্থানান্তরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। ভারতসহ অন্য অনেক দেশ সেই বিনিয়োগ পেতে লবিং করছে। আমাদেরও এমন উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কাজটি দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে।
পোশাকের ব্যবসা কমছে। ফলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারাবেন। আবার কাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকেরাও দেশে ফিরে আসছেন। এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, এমন একটি দূরদর্শী বাজেট লাগবে। অন্যথায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, আর্থিকসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে দ্রুতই বেকার মানুষজনকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। দেশে ও দেশের বাইরে কৃষিপণ্যের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে। তাতে অর্থনীতিও সহজে চাঙা হতে পারে।
কে এম রেজাউল হাসনাত : চেয়ারম্যান, ভিয়েলাটেক্স গ্রুপ