ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ, বাংলাদেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুল্ক আরোপ যে করা হবে, তা অনেক আগে থেকেই জানা। নির্বাচনের প্রচারণায় এই অঙ্গীকার তিনি আগেই করেছিলেন।

এই পাল্টা শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, এত দিন বিশ্বের অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে। এই শুল্কের মধ্য দিয়ে তার অবসান হলো। উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি এদিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দেন। কিন্তু সেই পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। যদিও ট্রাম্প দমে যাওয়ার লোক নন, তিনি ভিন্ন আইনের প্রয়োগ করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যব্যবস্থায় আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও বাংলাদেশ যে ১৯ শতাংশ শুল্কের চুক্তি করেছিল, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেলে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়বে বাংলাদেশ, পুরো বিষয়টির মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা আছে। শুল্কহারের চেয়ে নীতিগত নিশ্চয়তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই নিশ্চয়তা না থাকলে ক্রেতারা পণ্য কেনা বৃদ্ধিতে উৎসাহী হবেন না।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মত, নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে; বাড়াতে হবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।

কী এই পাল্টা শুল্ক

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অনেক দেশের রপ্তানির মূল গন্তব্য। ভিয়েতনামের মতো অনেক দেশ রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে যত পণ্য রপ্তানি করে, যুক্তরাষ্ট্রে এসব দেশে তত পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে না। ফলে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি বিপুল।

ট্রাম্প এ বিষয়কে ক্ষতিকর বলে মনে করেন। এ কারণে যেসব দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যে তার ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। সেই সঙ্গে আগের নিয়মিত শুল্ক তো ছিলই। এই প্রেরণার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। যদিও পরবর্তীকালে তার সংশোধন হয়। আলোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথক বাণিজ্য চুক্তি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি হয়।

কথা ছিল, যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত শুল্ক আরোপ করে, সেই দেশের পণ্যে ঠিক ততটাই শুল্ক আরোপ করা হবে। ২ এপ্রিলের ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা করতে পারতাম; কিন্তু তাতে অনেক দেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।’ চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন মুদ্রা কারসাজিসহ বাণিজ্যবাধা সব মিলিয়ে মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে; যুক্তরাষ্ট্র করবে তার প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ। সব দেশের বেলায় কমবেশি এই নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় বিপর্যস্ত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প। তখন সব দেশের পণ্যে গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন

ট্রাম্প কি এখন শুল্কযুদ্ধ থেকে সরে আসবেন

এই প্রশ্নের সোজাসাপটা উত্তর হলো, না। শুল্ক আরোপ করে মার্কিন অর্থনীতিতে বিশেষ গতি না এলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসছেন না।

রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ছাড়া অন্য আইন ব্যবহার করে হলেও তিনি শুল্ক আরোপ করে রাখবেন। তিনি নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন অনুযায়ী তথাকথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক রীতি নিয়ে অতিরিক্ত তদন্ত করার কথাও জানান।

ট্রাম্পের ভাষায়, আদালত কেবল আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীন তাঁর ক্ষমতা সীমিত করেছে। তাই বাণিজ্য ও শুল্ক নীতিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হাতে আরও অনেক পথ খোলা আছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এতে ২০২৬ সালে শুল্ক থেকে সরকারের আয় প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। শুল্ক আরোপের বিকল্প আইনি পথ থাকলেও সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন শুল্কের পরিমাণ ও মেয়াদের সীমা এবং তদন্ত ও শুনানির মতো প্রক্রিয়াগত শর্ত।

ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করতে চায়। এই ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে আইন অনুযায়ী এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকতে পারে।

এ ছাড়া আইনের অন্য ধারাগুলো ব্যবহার করতে হলে আগে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যরীতি মোকাবিলার জন্য শুল্ক প্রয়োজন।

ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নতুন আইনি পথে এগোতে হলে প্রশাসনকে আরও কাজ করতে হবে। তবে তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত শুল্কনীতি আটকে যাবে না। তাঁর কথায়, ‘প্রক্রিয়াটা একটু জটিল এবং সময় লাগবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এতে আমাদের আয় আরও বাড়বে।’

শুল্কের টাকা কি ফেরত দিতে হবে

গত বছর শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ছিল আনুমানিক ২৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই শেষ পর্যন্ত মার্কিন নির্মাতা ও ভোক্তাদের কাছ থেকেই এসেছে। যদি সরকারকে এই অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশ খরচ মার্কিন কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হয়েছে, যার সিংহভাগ ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তবে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠলেও তা শিগগিরই হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানফ মন্তব্য করেছেন, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্ভবত বেশ জটিল। ট্রাম্প অবশ্য সম্ভাব্য ফেরতের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এ নিয়ে কথা হচ্ছে না। হয়তো এমন হবে যে এ নিয়ে আগামী কয়েক বছর আদালতে লড়াই হবে।

অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ

বিষয়টি হলো, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যে এত দিন উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল। অনেক দিন ধরেই এটা চলে আসছিল, যেমন ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে ৯০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করে ঠিক তার অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ। বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ রেখেছিল। তখন তারা আমাদের পণ্যে তার অর্ধেক বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল, ২ এপ্রিল তাদের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করে ঠিক তার অর্ধেক বা ২৬ শতাংশ।

পৃথিবীর সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল; কারণ, যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তি। এই উচ্চ শুল্ক ছিল একধরনের মাশুল। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল রপ্তানি। সেই রপ্তানির মূল গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ট্রাম্প সেটা মানবেন না। তিনি সেই অর্থে পরাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা, তা নিতে চান না। তিনি মূলত ব্যবসায়ী; ব্যবসা-বাণিজ্যই তাঁর মূল শক্তি। ২ এপ্রিলের আগে থেকেই তিনি বলে আসছিলেন, পৃথিবীর সব দেশ এত দিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে, কিন্তু সেই দিন আর নেই। ২ এপ্রিল সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে; সেদিন হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস।

পাল্টা শুল্ক প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তরের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, ‘ট্রাম্পের সবকিছুই দ্বিপক্ষীয়। বৈদেশিক নীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্যনীতি—সব ক্ষেত্রেই তিনি দ্বিপক্ষীয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করছেন। এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হলো বলেই মনে করছি। কেননা ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। নানা আইন খুঁজে বের করে তিনি শুল্ক আরোপ করে যাবেন। ফলে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে।’

সেলিম জাহানের প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকার কেন শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করল। এটি খতিয়ে দেখা উচিত বলে তাঁর মত। এই চুক্তির কারণে নতুন সরকার দায়ের মধ্যে পড়ে গেল। আবার এখন কী হবে, সেটাও নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যে সেলিম জাহানের মত, বাংলাদেশকে বিকল্প খুঁজতে হবে। ভারত যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি করেছে, সে রকম কিছু করার চিন্তা করতে হবে। এদিকে এলডিসি উত্তরণ আবার তিন বছর পেছানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তাঁর প্রশ্ন, এই তিন বছরের মধ্যে কি আমরা সব ঘাটতি পূরণ করতে পারব, যেসব ঘাটতির কথা বলে এই আবেদন করা হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের মিথ্যা দাবি

যুক্তরাষ্ট্র যে ধুয়া তুলে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করছে, তা এককথায় ভিত্তিহীন। বাণিজ্যঘাটতি থাকা মানেই খারাপ কিছু নয়। এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যে বাণিজ্যঘাটতির কথা বলে, তার মধ্যে শুভংকরের ফাঁকি আছে। ঘাটতির যে হিসাব দেওয়া হয়, তা মূলত পণ্য-বাণিজ্যের। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে ঠিক, কিন্তু একই সঙ্গে যে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা–বাণিজ্যে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত আছে, সেটা তারা বলে না। বরং বলা যায়, সুবিধা নেওয়ার জন্য এড়িয়ে যায়।

ট্রাম্পের শুল্কসংক্রান্ত বয়ানের না–বলা সত্যটি হলো, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা–বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত ২৯৩ বিলিয়ন বা ২৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালের তুলনায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য দিয়েছে।

এ ছাড়া যেকোনো দেশ উন্নতির বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন খাতের ওপর নির্ভর করে, যেমন প্রথমে কৃষিনির্ভরতা, তারপর শিল্পনির্ভরতা। এরপর যখন সেই দেশ উন্নতির চরম শিখরে উঠে যায়, তখন সেবা বা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রও সেই পর্ব পেরিয়ে এসেছে। পৃথিবীতে আজ যত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় সবই তাদের তৈরি। এখন চীন সেই পথ ধরছে। ভারত কিছু আগেই সেবা বা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন। উৎপাদন খাতে বিকশিত হওয়ার আগেই তারা সেবা খাতের দিকে এগিয়েছে। ফলে ট্রাম্প চাইলেই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনের দিকে নিতে পারবেন না।

সেই সঙ্গে অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়েছে বলে ট্রাম্পের যে অভিযোগ, তা-ও সত্য নয়। ১৯৯৫ সালে জাপানের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি ছিল। এখন তা এতখানি উল্টে গেছে যে কারও চোখ কপালে উঠতে পারে—২০২৩ সালে মার্কিনদের মাথাপিছু জিডিপি জাপানিদের তুলনায় ছিল ১৪৫ শতাংশ বেশি। বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাপানের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র খারাপ নেই।