সীমান্ত ব্যাংক

ছোট ছোট ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি

মো. নুরুল আজীম
মো. নুরুল আজীম
প্রশ্ন

বিজিবি কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও দেশের সাধারণ মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিণত হতে সীমান্ত ব্যাংক কী উদ্যোগ নিচ্ছে?

মো. নুরুল আজীম: ‘সীমাহীন আস্থা’ এই স্লোগান সামনে রেখে বিজিবি কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সীমান্ত ব্যাংক পথচলা শুরু করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে সীমান্ত ব্যাংক বিজিবি সদস্যসহ জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। উন্নত গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন প্রান্তের সব গ্রাহককে সমানভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি।

সাধারণ ভোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তাসহ সব ধরনের উদ্যোগের পাশে থেকে আর্থিক সেবা প্রদান করছি। ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোক্তা লাভজনকভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন।

প্রশ্ন

সীমান্ত এলাকা ও দুর্গম অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যগুলো কী?

মো. নুরুল আজীম: আমাদের ব্যাংকের অনেক শাখা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আছে। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার নেটওয়ার্কে যুক্ত করছি। এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন। ছোট ছোট ঋণের মাধ্যমে আমরা তাঁদের উদ্যোগগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি এবং তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন। এ ধরনের ঋণখেলাপি হওয়ার হার খুবই কম। তাঁরা সময়মতো ঋণের কিস্তিগুলো পরিশোধ করছেন। সীমান্ত অঞ্চলের অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আমাদের সহায়তায় তাঁদের ব্যবসাকে বড় করেছেন। 

আমাদের ব্যাংকের অনেক শাখা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আছে। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার নেটওয়ার্কে যুক্ত করছি। এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন।
মো. নুরুল আজীম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সীমান্ত ব্যাংক
প্রশ্ন

খেলাপিমুক্ত ও অত্যন্ত অনুশাসনমুখী ব্যাংকিং বজায় রাখতে সীমান্ত ব্যাংক কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মেনে চলে?

মো. নুরুল আজীম: বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতি অনুসরণ করে আমরা ঋণগুলো অনুমোদন করে থাকি। ঋণগুলো বিতরণের পরে নিয়মিতভাবে তা তদারকি করা হয়। কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে, দ্রুতই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো আবেদনকারী যদি প্রয়োজনীয় দলিল ও ঋণের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা ঋণটি প্রদানে বিরত থাকি। কারণ, নিয়মনীতির সর্বোচ্চ চর্চা করে ঋণগুলো প্রদান করা হয়। 

প্রশ্ন

প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ও অটোমেশন বৃদ্ধিতে আপনাদের বর্তমান অগ্রগতি কেমন?

মো. নুরুল আজীম: সীমান্ত ব্যাংক ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘কানেক্ট’ উদ্বোধন করে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘কানেক্ট’–এর মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার (বিএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি), এমএফএস ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল প্রদান, ডিপিএস ও ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা, যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, টিউশন ফি প্রদানসহ নানা সেবা গ্রহণ করা যায়।

খুচরা গ্রাহকের জন্য ‘কানেক্ট’ ও করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ‘কানেক্ট প্লাস’ নামে দুটি আলাদা অ্যাপ রয়েছে। এ ছাড়া ২৪/৭ কল সেন্টারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমারদের সেবা প্রদান করা হয়।

প্রশ্ন

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থায়ন সহজ করতে সীমান্ত ব্যাংক কী ভূমিকা রাখছে?

মো. নুরুল আজীম: দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জন্য সীমান্ত ব্যাংকের ঋণ ‘আস্থা’ ও ‘দিশারী’, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ ‘সীমান্ত প্রেরণা’, প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সীমান্ত প্রান্তিক উদ্যোগ’, ‘নারী শক্তি’সহ নানাবিধ ঋণসেবার মাধ্যমে সীমান্ত ব্যাংক প্রান্তিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। দেশের প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ প্রাপ্তিকে সহজতর করেছি। যশোর জেলার গদখালীতে আমরা শাখা স্থাপন করে ফুলচাষিদের ঋণ প্রদান করছি। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রত্যন্ত এলাকা চম্বকনগর, কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা প্রাগপুরে শাখা স্থাপন করে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা প্রদান করছি।

প্রশ্ন

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আমানতকারীদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনারা কী কৌশল নিয়েছেন?

মো. নুরুল আজীম: ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ঝুঁকির ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আমাদের কাছে সাইবার নিরাপত্তা শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি গ্রাহকের আস্থা, আমানতকারীর স্বার্থ এবং ব্যাংকের সামগ্রিক সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । 

নিরাপত্তাকৌশলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, শক্তিশালী প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা, তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ডেটা ব্যাকআপ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার ঘটনার দ্রুত শনাক্তকরণ ও মোকাবিলার সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

প্রশ্ন

আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক দায়ের মেলবন্ধনে একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক ব্যাংক হিসেবে সীমান্ত ব্যাংককে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা কী?

মো. নুরুল আজীম: পর্ষদ সভায় অনুমোদিত ব্যাংকের একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকের সার্বিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আমানত (ডিপোজিট) ও ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণে উন্নীত করা, ক্রেডিট কার্ড, বাংলা কিউআর এবং ঋণ শ্রেণীকরণ ন্যূনতম মাত্রায় রাখার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক। সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি ও টেকসই অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকিং সেবাকে আরও বৃহৎ পরিসরে সরাসরি গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।