জাহিদ হোসেন
জাহিদ হোসেন

অভিমত

একসঙ্গে সব স্তরে বেতন বাড়ানো অযৌক্তিক

সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডের একসঙ্গে বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার কারণ, সরকারের বর্তমান রাজস্ব আয় কম। প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এ অবস্থায় মোটা অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি হলে তা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য কঠিনই হবে। বেতন বৃদ্ধির আগে অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিশ্চিত করা দরকার।

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে—সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ১৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে ১০৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ন্যূনতম বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হতে পারে। আর সর্বোচ্চ ধাপে, অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। একসঙ্গে সব গ্রেডে এ পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির মতো রাজস্ব আয় এখন পর্যন্ত করতে পারেনি সরকার।

সুপারিশ করা স্কেল অনুযায়ী বেতন বাড়ানো হলে সরকারের যে পরিমাণ পরিচালন ব্যয় দাঁড়াবে, তা প্রতিবছর জোগান দিতে হবে। এটা ধার করে হবে না। ধার করলে বোঝা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়ানো অথবা অন্য ব্যয় কমানো—দুটি উপায় আছে। অন্য ব্যয় কমানোর জায়গাও সীমিত।

যদি ধরেও নিই, একসঙ্গে সবার বেতন না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। তবু প্রথম ধাপে ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থ লাগবে। গত কয়েক বছর ধরে চার লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাম ঝরছে। নানা চেষ্টার পরও রাজস্ব আয় চার লাখ কোটির টাকার ওপর উঠছে না। আর ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে যদি বলি, তাহলে উন্নয়ন ব্যয় ইতিমধ্যে কমানো হয়েছে। আরও কমাতে গেলে ভর্তুকি কমাতে হবে। সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা কতটা বাস্তবসম্মত হবে?

আয় না বাড়িয়ে একসঙ্গে সব স্তরে বেতন বাড়ানো অযৌক্তিক। পরিচালন ব্যয় বাড়ালে তা পরিশোধের পথ আগে ঠিক করে নিতে হবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিচের গ্রেডে যতটুকু বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, সেটির যৌক্তিকতা রয়েছে। এখন শুধু এ স্তরে হাত দিলেই হতো। সব পর্যায়ে মোটা অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

  • জাহিদ হোসেন, বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ