জাইকার অর্থায়নে তহবিল

৫% সুদে ১৪৬ কোটি টাকার ঋণ

এখন পর্যন্ত ঋণ পেয়েছে ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ঋণ পাওয়া গ্রাহকদের বেশির ভাগই আদমজী ইপিজেডের।

  • বছরে এক লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, এমন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঋণ নিতে পারবে।

  • আগে ১০ লাখ ডলারের কম রপ্তানি হলে কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ পেত না।

বাংলাদেশ ব্যাংক

জাপানে পণ্য রপ্তানি করছে, দেশের এমন প্রতিষ্ঠানগুলো ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ পেয়েছে। জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত চলতি মূলধন হিসেবে এই ঋণ পাচ্ছে উদ্যোক্তারা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছে। আর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করছে ৫ শতাংশ। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই ঋণ প্রকল্প চলবে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত।

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী জাপানি কোম্পানি, জাপান-বাংলাদেশ মালিকানাধীন ও দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো এই ঋণ পাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিকানার ধরন যা-ই হোক না কেন, জাপানে পণ্য রপ্তানি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোই শুধু এ ঋণ সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন প্রজেক্ট (এফডিআইপিপি) থেকে এখন ১৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ পেয়েছে ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ঋণ পাওয়া গ্রাহকের বেশির ভাগই আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেডের।

এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি থেকে টারাসিমা অ্যাপারেলস পেয়েছে ১০ কোটি টাকা, জিন্নাত নিটওয়্যার পেয়েছে ৩০ কোটি টাকা, ফারিহা নিট পেয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কনসেপ্ট নিটিং পেয়েছে ২০ কোটি টাকা, এসিলন নিট কম্পোজিট পেয়েছে দেড় কোটি টাকা ও আউশ বাংলা জুটেক্স পেয়েছে ৪০ লাখ টাকা।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাধ্যমে কাটিং এজড ইন্ডাস্ট্রিজ পেয়েছে ৮ কোটি টাকা ও নর্দান করপোরেশন পেয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ল্যান্ড মার্ক ফুটওয়্যার পেয়েছে ১৪ কোটি টাকা ও ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এস এম নিটওয়্যার পেয়েছে ১৯ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ২০১৭ সালে ৭০৩ কোটি জাপানি ইয়েনের সমপরিমাণ ৪৬১ কোটি টাকার এ তহবিলের যাত্রা শুরু হয়। পরে তহবিলের আকার বাড়ানো হয়। এটা মূলত পুনঃ অর্থায়ন তহবিল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিয়ে এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বছরে এক লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, এমন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঋণ নিতে পারবে। আগে ১০ লাখ ডলারের কম রপ্তানি হলে কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ পেত না। মূলত আরও বেশি গ্রাহককে এই ঋণ দিতে শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার যে প্রণোদনা ঋণ দিচ্ছে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। এ কারণে গত ডিসেম্বরে জাইকার সহায়তায় গঠিত এই তহবিলের ঋণের সুদহার কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে এই ঋণের সুদহার ছিল ৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলে, নতুন-পুরোনো সব ঋণে নতুন সুদহার কার্যকর হবে।

ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেড় শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ শতাংশ ব্যবধানে (স্প্রেড) এই ঋণ দিতে পারবে, আগে যা ছিল ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আরও বেশ কয়েকটি ঋণ আবেদন আছে। দাতা সংস্থার ঋণ হওয়ায় বেশ যাচাই–বাছাই করে দিতে হচ্ছে। এ কারণে ঋণ বিতরণে গতি কম।