বাংলাদেশের মানুষ আফগানিস্তানের চেয়ে চিকিৎসা খাতে নিজের পকেট থেকে বেশি ব্যয় করেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাস্থ্য খাতের এই নাজুক পরিস্থিতি দূর করতে সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬–২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও বাংলাদেশ বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার।
অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য খাতে (চিকিৎসা খরচ) নিজের পকেট থেকে সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, যা আফগানিস্তানের চেয়ে বেশি। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এত খারাপ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যাঁরা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না, তাঁদের স্বাস্থ্য যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তবে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
এ সময় সব নাগরিকের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে আমরা তাদের প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারলে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি কম ঘটবে। অর্থাৎ সামনের দিকে অসুখ–বিসুখ কম হবে।’
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কাজটি করা কঠিন, কিন্তু কঠিন হলেও তা করতে হবে।’ এ জন্য শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর না করে এখানে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সঙ্গে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই কার্ডের বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই, থাকবে না। আমরা এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করেছি।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, এত বড় কার্যক্রমে বিচ্যুতির হার মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বড় সাফল্য। তবে এই সামান্য বিচ্যুতিটুকুও এখন সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে শতভাগ না হলেও অন্তত ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।