জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন বা ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাধারণত দেশে দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় আসা বাড়ে। এখন মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য প্রবাসী আয় আসছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই বেশি প্রবাসী আয় আসছে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে আসছে। নির্বাচনের আগপর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে। তখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।
গত বছরের নভেম্বরে ২৮৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। গত জুলাই ও আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৪৮ ও ২৪২ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে কিছুটা বেড়ে ২৬৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। পরের মাসে কিছু কমে ২৫৬ কোটি ডলারে নামে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে দেশে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। এই আয় বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের প্রায় সমান।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।