বৈদ্যুতিক গাড়ি
বৈদ্যুতিক গাড়ি

বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক, ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ল

এখন থেকে ইলেকট্রিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন গ্রাহকেরা। অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ঋণসীমাও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ পাবেন। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনায় এবং ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে ব্যাংকগুলো কত টাকা দিতে পারবে, সেই নতুন সীমা ঠিক করেছে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহনের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ির বাজারমূল্য বিবেচনায় এবং গ্রাহকদের ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহন কেনায় উৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাড়ির ঋণ ৮০ লাখ টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা। এটি হিসাব বিমাসহ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো একজন গ্রাহককে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অটো লোন’ দিতে পারবে। কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সদস্যদের অটো ঋণ দিলে তা ওই ব্যক্তির মোট ঋণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলছে, ‘অটো লোন’ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থায়ন সুবিধা সর্বোচ্চ ৬০: ৪০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে প্রদান করতে হবে। তবে হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার জন্য অর্থায়ন সুবিধা সর্বোচ্চ ৮০: ২০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ এক কোটি টাকার গাড়ির ক্ষেত্রের ব্যাংক গ্রাহককে ৬০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। গ্রাহককে বাকি ৪০ লাখ টাকা দিতে হবে। তবে একই দামের হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক ৮০ লাখ টাকা দিতে পারবে, গ্রাহককে দিতে হবে ২০ লাখ টাকা।

সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুপ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও গাড়ির দামের বিবেচনায় ঋণ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরিবেশবান্ধব বিবেচনায় ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ঋণ বাড়বে। পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাড়ল ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কয়েক বছরে বাংলাদেশে ভোক্তা পণ্যের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ভোক্তার খরচ করার সামর্থ্য বাড়িয়েছে। বিদ্যমান বাজারমূল্য এবং ভোক্তাপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তাঋণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। তবে ব্যাংকের জমা থাকা টাকার বিপরীতে দেওয়া ঋণ এই সীমার বাইরে থাকবে। আগে ব্যাংকগুলো ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে ভোক্তা অর্থায়ন (কনজ্যুমার ফাইন্যান্স) করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তা মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ব্যাংকের মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হারকে অতিক্রম না করে।