ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারধারীরা কোন পটভূমিতে শেয়ার কিনেছেন, সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমন খবর জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ওই পাঁচ ব্যাংকের নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সাধারণ শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারধারীদের বিষয়টি জটিল। বললেই তো হবে না, এসব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যা বলছি, আমানতকারীরা টাকা পাবেন, এটা খুবই সরল হিসাব। যাঁর টাকা জমা আছে, তিনি টাকা পাবেন। আর শেয়ারধারীরা শেয়ার কিনেছেন কোন পটভূমিতে—বাজার দরে (মার্কেট প্রাইস) কিনেছেন, শেয়ারধারীরা মালিক হতে চেয়েছেন।’
শেয়ারধারীরা বলছেন যে তাঁরা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন এবং ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রসঙ্গ তোলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটা তো আমরা দেখব। ওই বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছি, কোন পটভূমিতে কিনেছেন এবং দেখি কী করা যায়।’
৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা নিরীক্ষা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। যা–ই হোক, এখন সব কথা বলা যাবে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন সম্পর্কে (সেখানে বলা হয়েছে সরকারের উপদেষ্টাদের থেকে আমলাতন্ত্র বেশি শক্তিশালী এবং তারা সব সিদ্ধান্ত নেয়) অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশে এ রকম একটা বিষয় সব সময় চলে আসছে। একসময় বেশি বলেন, একসময় কম বলেন।’
এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ইরান ও নেপাল বলেছে, তারা বাংলাদেশ হতে চায় না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ওরা কী পটভূমিতে বলেছে, আমি জানি না। আর কে কী বলেছে, সেটা তো আমাদের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ ভালো করছে, হয়তো মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক উদ্ভূত বহুমাত্রিকতার কারণে বাঁক বদল থাকবে। একেবারে সরলরেখায় কোনো দিন চলে না। সরলরেখায় দেশেরও উন্নতি হয় না।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় হলো সুশাসন। রাজনৈতিক সুশাসন যদি না থাকে, ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ইন্সপেক্টর পাঠিয়ে দিয়ে, ম্যাজিস্ট্রেট বসিয়ে দিয়ে হয় না। বিশ্বের কোনো দেশে এটা হয় না।’