বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নিয়ে শুরু হলেও মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবা বাড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন এ ব্যাংক তাদের কার্যক্রমে সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে নিজেদের ভালো অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।
কমিউনিটি ব্যাংক জানায়, তাদের ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলো বেশ ইতিবাচক। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকায়। এর বিতরীতে ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন খেলাপি ঋণ (এনপিএল) একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন কমিউনিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তদারকির কারণেই এ খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ঋণখেলাপি হওয়ার আগেই তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এ ছাড়া ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে জানায় কমিউনিটি ব্যাংক। এ ব্যাংকের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কমিউনিটি ক্যাশ’ অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমানে ২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি গ্রাহক ঘরে বসেই আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে কিউআর কোডে পেমেন্ট—সব ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ডিজিটাল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ১১টি বৈশ্বিক পুরস্কার পেয়েছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ‘ইনফোসিস ফিনাকল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস’-এ ‘কমিউনিটি অ্যাকসেস’ পেয়েছে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়া গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষায় ব্যাংকটি আইএসও/আইইসি ২৭০০১:২০২২ ও পিসিআই-ডিএসএস সনদ অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার সদস্যের বেতন ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে পে-রোল ব্যাংকিংয়ে সফল হয়েছে ব্যাংকটি। তবে তাদের সেবা শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাধারণ এসএমই ও রিটেইল খাতেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ মনোযোগ। ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর আগে পুলিশের সদস্যদের বেতন-ভাতা মূলত নগদ অর্থে পরিশোধ করা হতো। বিভিন্ন ইউনিটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বেতন পরিশোধের কারণে এ প্রক্রিয়ায় সময় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জও ছিল।
নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ব্যাংকটি নানা কার্যক্রম চালু করেছে। এ ছাড়া টেকসই অর্থায়নের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইটিপি প্লান্ট ও পরিবেশবান্ধব কারখানায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ব্যাংকটি।
দেশজুড়ে ১৯টি শাখা, ৫টি উপশাখা, ১১১টি সার্ভিস ডেস্ক ও ১৯১টি এটিএম/সিআরএমের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে কমিউনিটি ব্যাংক। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শিগগিরই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে তারা।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘২০২৯ সালের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত, টেকসই ও ক্যাশলেস ব্যাংক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা রূপান্তর, বৃদ্ধি ও টেকসই নীতিতে বিশ্বাসী। সুশাসন ও সম্পদের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ছাড় না দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে চাই।’