ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘোষণা

১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারবেন

ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের ব্যাংকিং স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন। গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে। আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকটি।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদুল হক। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমদ, মো. সরওয়ার হোসেন ও মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে গভর্নর আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি জন–আস্থা অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারীর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সভার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন দুপুরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সব ব্যাংকিং সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন গভর্নরকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতা এবং পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল ব্যাংক আবারও পূর্ণ গতিতে গ্রাহকসেবায় ফিরছে।

এদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘দীর্ঘ সময় ধরে যেসব গ্রাহক ধৈর্য ধরে পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। খেলাপি ঋণ আদায়ে আমরা সব সময়ই কঠোর অবস্থানে ছিলাম। আগামী দিনেও কোনো খেলাপিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।’

এ ছাড়া ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।