সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের শাখা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের শাখা।

জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে এক হাজার কোটি টাকা দিল সরকার

রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে ৩০ কোটি দিরহাম (৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার) মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার, যা বাংলাদেশের ১ হাজার ৩ কোটি টাকার মতো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জনতা ব্যাংককে আজ বুধবারের মধ্যে ইউএইতে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ১০৪ মার্কিন ডলার পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণ করতে না পারায় ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সরকার টাকার জোগান দেওয়ায় ইউএইর আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল আইনে থাকা জনতা ব্যাংকের চারটি শাখাই সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারবে। তাদের সেবা নেয় বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জনতা ব্যাংক ১৯৭৬ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা ৪০ কোটি দিরহাম। এর বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে ১০ কোটি দিরহাম। অর্থাৎ ঘাটতি আছে ৩০ কোটি দিরহাম, যা বাংলাদেশের ১ হাজার ৩ কোটি টাকার মতো। ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলধন বাড়ানোর শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে জনতা ব্যাংককে চলতি বছর একাধিকবার চিঠি দেয়। সর্বশেষ চিঠিতে সময় বেঁধে দিয়ে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিতে বলা হয়। পাশাপাশি শাখাগুলোকে নতুন কোনো গ্রাহকের হিসাব খোলা বা নতুন কোনো সেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বলে। এ ছাড়া ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

এ নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউএইতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম মূলধনের শর্ত পূরণ করতে হবে। এ জন্য জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন সম্পদের সংরক্ষিত উপখাত থেকে স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে এই অর্থ পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হলো।

ইউএইতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা জনতা ব্যাংকের ওই চার শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর পাশাপাশি সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি হিসাব খুলতে পারেন। প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এবং ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে শাখাগুলোতে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যকার আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত ঋণপত্র (এলসি) খোলা, কমার্শিয়াল গ্যারান্টি এবং বাণিজ্যিক ঋণ দিয়ে থাকে শাখাগুলো।