ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার তাঁকে অপসারণ করা হয়। একই পদে সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগপর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। এ সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। এ ছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই ১০ হাজার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব কারণে ব্যাংকটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
২০২৪ সালে অর্ন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এ সময় পালিয়ে যান শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। পুনর্গঠিত পর্ষদে সদস্য করা হয় মো. আবদুল জলিল।
অপসারণের কারণ কী
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মো. আবদুল জলিল শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ সময় চাকরি করেন। পরে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে ডিএমডি পদ থেকে অবসরে যান। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সর্ম্পক রয়েছে। ব্যাংকটির একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যার সত্যতা পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন তাকে সতর্ক করা হয়।
শুরুতে আবদুল জলিলকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠায় সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি পরিচালক পদে বহাল ছিলেন।
আরও জানা গেছে, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে। তিনি জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এসব কারণে এবার পরিচালক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
এসব বিষয়ে জানতে আবদুল জলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষ করে যাওয়ার পর বিকেলে আবদুল জলিলকে অপসারণ করে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে এস এম আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি মুঠোফোনে চিঠির কপি পেয়েছি। ঈদের পর কাজ শুরু করব। ব্যাংকটিতে বড় ঝামেলা আছে। ফলে অনেক কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান অপসারণের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।