সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি ও জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে ঘরের দেয়াল রাঙানো মানেই ছিল শুধু সাধারণ কিছু রঙের ব্যবহার, কিন্তু এখন মানুষ চায় নান্দনিকতা, স্থায়িত্ব ও নিজস্বতার প্রকাশ। গ্রাহকের এই চাহিদাকে পুঁজি করে অনন্য বৈচিত্র্যে রঙিন হয়ে উঠেছে দেশের সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার রঙের বাজার। এই বাহারি রং এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের নানা দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া পরিবেশবান্ধব ও স্যাঁতসেঁতে-প্রতিরোধী রঙের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাজারে এসেছে অ্যালার্জিমুক্ত, দুর্গন্ধহীন ও সহজে পরিষ্কারযোগ্য ইকো-ফ্রেন্ডলি পেইন্ট। সাধারণ রঙের পাশাপাশি টেক্সচার পেইন্ট, উডেন ফিনিশ ও মেটালিক শেড আধুনিক আবাসন নির্মাণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ছাড়া ‘এআর-চালিত’ কালার প্রিভিউ বা জারা-প্রতিরোধী প্রলেপ ব্যবহারের মতো প্রযুক্তি এই খাতকে শুধু সজ্জার বাইরে গিয়ে আরও সময়োপযোগী করে তুলেছে।
শুধু দেশীয় বাজার নয়, বাংলাদেশের রঙের বাজার এখন বিদেশের দিকেও নজর দিচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে রঙের রপ্তানি বছরে ৫০ হাজার ডলারের মতো হলেও সম্ভাবনার পালে হাওয়া লেগেছে। আন্তর্জাতিক মান ও সনদ (যেমন আইএসও, সাসো, সিরিম) অর্জনের মাধ্যমে কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন চলছে। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার মতো একই রকম জলবায়ুর বাজারগুলো লক্ষ্য করে মেরিন কোটিং ও লবণাক্ততা-প্রতিরোধী রঙের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
তৈরি পোশাক ও চামড়াশিল্পের বাইরে গিয়ে বহুমুখী রপ্তানি পণ্য হিসেবে রং হয়ে উঠতে পারে একটি মূল্যবান সংযোজন। আবাসনশিল্পের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সৃজনশীলতা ও বৈশ্বিক দক্ষতার সমন্বয়ে বাংলাদেশের এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্যের এই ধারা দেশের রঙের বাজারকে আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে আরও সুদূরপ্রসারী ও সমৃদ্ধ করবে।