আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সহজে মিলছে গাড়ির ঋণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও জ্বালানি খরচ কমাতে দেশের পরিবহন খাতে এখন নতুন ছোঁয়া লেগেছে। ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এসেছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব গাড়ি ঋণসুবিধা। আর্থিক খাতের এই সময়োপযোগী ইতিবাচক উদ্যোগ পরিবেশসচেতন ক্রেতাদের নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে।

বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ঋণ কেবল নতুন গাড়িতে আর সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জন্য রয়েছে বিশেষ অর্থায়নসুবিধা। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ হাইব্রিড গাড়ির পাশাপাশি সাশ্রয়ী সেমি-হাইব্রিড গাড়ির ঋণসুবিধাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য পরিবেশবান্ধব এসব আধুনিক গাড়ি কেনা আগের চেয়ে অনেক সহজ হচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ চাকরিজীবীদের আর্থিক সামর্থ্য ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে ঋণের এই বিশেষ প্যাকেজগুলো। তরুণদের নাগালের মধ্যে রাখতে দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী ইএমআই সুবিধা। পাশাপাশি প্রারম্ভিক আর্থিক খরচ কমাতে দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ জিরো প্রসেসিং ফি সুবিধা। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কম খরচে নিজস্ব পরিবেশবান্ধব গাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারছেন তরুণ পেশাজীবীরা।

অন্যদিকে গ্রাহকসেবা ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে আইপিডিসি, আইডিএলসি ও লঙ্কাবাংলার মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি নজর দিয়েছে দ্রুততম লোন অনুমোদন ও আধুনিক কাস্টমার সার্ভিসের দিকে। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার পর ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেডিকেটেড রিলেশনশিপ অফিসার এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবার মাধ্যমে কেনাকাটার প্রতিটি পদক্ষেপে ঝামেলাহীন সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক খাতের এই সহজ ও সবুজ অর্থায়নসুবিধা দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করবে। এই উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদের দেশের সাধারণ ব্যক্তিগত যাতায়াতব্যবস্থাতেও এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।