
আগামীকাল সোমবার থেকে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো ২০২৬’। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেল হোটেলের পাশে মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি।
এতে সহযোগিতা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প। প্রদর্শনীতে দেশের ৫০টির বেশি হালকা প্রকৌশল পণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আয়োজকেরা। সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরেন সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শিত হবে এ প্রদর্শনীতে।
প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আয়োজকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রপাতি ও প্রকৌশল পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরা, আমদানিনির্ভরতা কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানোই এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে এ দেশে শিল্প বিকাশে প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নগদ সহায়তা না দিতে পারলে বিকল্পপন্থা নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ, এ খাত থেকে আমরা ৬-৭ বিলিয়ন ডলারের চাহিদা পূরণ করছি। আমাদের রপ্তানির পরিমাণও ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু আমাদের কাচাঁমাল আমদানিতে সব মিলিয়ে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এটা মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’ এ খাত শিল্পের হাসপাতালের মতো কাজ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামীকাল বেলা ১১টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র বেসরকারি খাতবিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচালক মো. আবদুর রহিম খান।
হালকা প্রকৌশল কর্মসংস্থান কত
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বর্তমানে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পরিণত হয়েছে। এই খাত কৃষি, বিদ্যুৎ, টেক্সটাইল, নির্মাণ, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন শিল্পের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই খাতে যুক্ত রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লক্ষাধিক মানুষের। এই শিল্প দেশের জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই খাতে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে ৫০০টি মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আয়োজকদের আশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে নির্মাতা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে। এতে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের প্রত্যাশার কথাও জানান তাঁরা।
সাত প্রস্তাব
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে শিল্পনগরীতে কমপ্লায়েন্সসমৃদ্ধ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন গঠনের দাবি জানানো হয়। উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া দেশি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো ও সহজ আমদানির সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজাইন ও মান উন্নয়নে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। দেশে তৈরি যন্ত্রাংশ ও নকশার স্বত্ব সংরক্ষণে সহজ, কার্যকর পেটেন্ট ও ডিজাইন নিবন্ধন ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।