বিপণিবিতান
বিপণিবিতান

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব দিল ফ্যাশন উদ্যোগ

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানালেও ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে ফ্যাশন উদ্যোগ বা ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাদের প্রস্তাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা হোক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুচরা বিক্রির বড় অংশ সাধারণত সন্ধ্যার পর হয়ে থাকে। এ সময় ব্যবসা সীমিত করা হলে বিক্রি, সরবরাহব্যবস্থা ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় শুধু সময় কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় না–ও হতে পারে।

ফ্যাশন উদ্যোগ মনে করে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পদক্ষেপ গ্রহণের সময় কর্মসংস্থান, রাজস্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এর প্রভাব বিবেচনায় রাখা জরুরি। সে জন্য তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার রাখার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি–সংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ছয়টায় দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে ফ্যাশন উদ্যোগের বিকল্প প্রস্তাব হলো, সাপ্তাহিক বন্ধের বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা; অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হ্রাস; এসির তাপমাত্রা ন্যূনতম ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ ও জ্বালানিসাশ্রয়ী (এলইডি) লাইট ব্যবহার নিশ্চিত করা; প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, বিদ্যুৎ অপচয় কমানো ও ‘ব্যবহার শেষে বন্ধ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দেশীয় পোশাক, ফ্যাশন ও কারুশিল্প খাত অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। কৃষির বাইরে এটি কর্মসংস্থানের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র। পাশাপাশি এই খাত থেকে অর্জিত ভ্যাট ও রাজস্ব জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সরকারের বর্তমান নির্দেশনা কার্যকর থাকলে যা ঘটতে পারে, তা হলো বিক্রি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস; সরকারি রাজস্ব কমে যাওয়া; সরবরাহশৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি; ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি ইত্যাদি।

ফ্যাশন উদ্যোগ মনে করে, সচেতনতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত না করেই তা বাস্তবায়ন করা যাবে।