আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)

বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার ৩৬ শতাংশ: আইএমএফ

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আইএমএফের ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়াজুড়ে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশ বেশি। বেশি শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই এই হার সর্বোচ্চ।

আইএমএফ বলছে, এআই প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তবে দক্ষতা বৃদ্ধির তুলনায় এআই গ্রহণের গতি বেশি হলে এই প্রযুক্তি তরুণ কর্মীদের শ্রমবাজারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

শুধু বাংলাদেশ নয়; ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার কত, তা–ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার বেশি কেন

দেশের শিক্ষিত তরুণদের চাকরি খোঁজার অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো বিডিজবস ডটকম। কেন বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার বেশি—এ বিষয়ে বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেন, গত ২০ বছরে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেশ বেড়েছে। ২০১০ সালে শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিল। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশ। এক যুগে এমন স্নাতক ডিগ্রিধারী আড়াই গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাকরির বাজার খুব একটা বদলায়নি। অর্থনৈতিক কাঠামোও পরিবর্তন হয়নি। নতুন স্নাতক ডিগ্রিধারী নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি।

ফাহিম মাশরুরের মতে, প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ তরুণ স্নাতক ডিগ্রিধারী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, দেশে ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকার আছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজার তরুণ-তরুণী। যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। এই বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী।

বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত বলছে, চাকরিপ্রত্যাশী ১৭ শতাংশের বেশি উচ্চ শিক্ষিত (স্নাতক ডিগ্রিধারী) তরুণ-তরুণী দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেকার থাকেন। ১ থেকে ২ বছর বেকার থাকেন ১৫ শতাংশের বেশি উচ্চশিক্ষিত তরুণ। এর মানে, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনে একজনকে এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকেন।

এক যুগে শ্রমবাজারে স্নাতক ডিগ্রিধারী আড়াই গুণ বেড়েছে। কিন্তু নতুন স্নাতক ডিগ্রিধারী নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি
ফাহিম মাশরুর, প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিডিজবস ডটকম

অন্য দেশের কী অবস্থা

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বেকার থাকেন। আর ভারতে তা ৪০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে এমন বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের বেশি।

আইএমএফ বলছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা অনেকের।

আইএমএফ বলছে, সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও স্নাতকদের দক্ষতার মধ্যে একটি স্থায়ী অসামঞ্জস্য রয়েছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল ব্যবহার করে জটিল অনেক কাজ বিনা মূল্যে করিয়ে নেওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি পদের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। অর্ধশতাব্দীর বেশি আগে বিশ্বের উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি।

এর আগে গত জুনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তরুণ-তরুণীরা সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুবগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আগের যেকোনো দশকের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি হবে এবং এই শতাব্দীর বাকি সময়ের যেকোনো দশকের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হবে।