উৎসে কর তদারকির নামে হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের, এনবিআরের নির্দেশে কী আছে

আয়কর আইনের আওতায় যেকোনো ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর জমা, তদারকি ও যাচাই করার কার্যক্রম জোরদার করার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। এমন মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

একই সঙ্গে ঢাকা চেম্বার উদ্বেগ প্রকাশ করছে, এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে কমপ্লায়েন্স পরিপালনকারী কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। আজ ঢাকা চেম্বারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের তা বাস্তবায়নে সময় ও সুযোগ প্রদানের জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। ঢাকা চেম্বার বলছে, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও করজাল সম্প্রসারণে দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল কার্যক্রমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আমাদের বেসরকারি খাতের সবার অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব হবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা

এদিকে গতকাল রোববার উৎসে কর আদায় ও তদারকি জোরদার করতে কর কর্মকর্তাদের পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। এ নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় এনবিআর।

আয়কর আইন, ২০২৩–এর ধারা ১৪৭ অনুসারে কর কর্মকর্তারা যেসব কাজ করতে পারবেন, সেই নির্দেশনাগুলো হলো—

১. যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিনে পরিদর্শন।

২. প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, রসিদ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম–সম্পর্কিত যেকোনো নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করা।

৩. প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভাঙার মাধ্যমে প্রবেশ করা।

৪. উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করা ও নিজস্ব হেফাজতে রাখা।

৫. যেকোনো নথিপত্র, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করা এবং তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজস্ব আহরণের জন্য এসব কার্যক্রমে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অসহযোগিতার জন্য ১৪৭ (২) ধারায় জরিমানার বিধান রয়েছে।