
অল্প সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে ডলারের ওপর চাপ কমাতে আমদানি কমানো, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এসব বিষয় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। আজ জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের লক্ষ্য হলেও আমরা একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে চাই। ইতিমধ্যে আমাদের সরকারের সময়োপযোগী কৌশলের প্রভাবে লেনদেন ভারসাম্যের অস্থিতিশীলতা কমে এসেছে। আগামী অর্থবছরেও আমরা সতর্ক থাকব এবং সংকুলানমূলক নীতি গ্রহণ করব।’
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মুদ্রা বিনিময়ের হার ক্রমান্বয়ে বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে বিদ্যমান একাধিক মুদ্রার বিনিময় হারের মধ্যে ব্যবধান ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য সঠিক মূল্যে পণ্য আমদানি নিশ্চিত করা এবং ঋণপত্র খোলা, নিষ্পত্তি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রক্রিয়াগত বিধিনিষেধ আরোপ ও বাস্তবায়ন ও নজরদারি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় প্রেরণে উৎসাহ প্রদানের জন্য আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান এবং সহজে রেমিট্যান্স পাঠানোর উপযোগী মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সব ফি মওকুফ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের প্রভাবে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানির অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি কমে স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বাড়ানোর উপযোগী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাইপলাইনে থাকা বৈদেশিক অর্থায়ন ছাড়করণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও ভালো অবস্থায় চলে আসবে।’