আজ সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আজ সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

আজ বুধবার একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই। অনেক আগে থেকেই এসব প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া যেকোনো রাস্তা কিংবা অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে, এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আছে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ।

সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে প্রতি ইউনিটের খরচ ছয় টাকা ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চার ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপের বিষয়টি যুক্ত করায় খরচ দাঁড়ায় ৯ টাকা। এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারি ব্যাকআপ ৮ ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই প্রকল্পের খরচ আরেকটু বাড়তে পারে।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হলো—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন; গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ; সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি; সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন; গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়, ২য় সংশোধন); বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ; রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ; ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন; ভজনপুর-আটোয়ারী-ময়দানগুড়ি-আমতলী-মির্জাগঞ্জ-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ; খানাটি-রিয়ামারি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত)।

এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন। বিষয়টি একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে।