ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের শপথ আজ মঙ্গলবার। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা হচ্ছে আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয় ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর আদেশে এ অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সর্বশেষ এ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালের ১২ মে। এর আওতায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত হয়ে আসছে।
একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সংসদ সদস্য ৫৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেয়ে থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাঁর পুরো চিকিৎসা খরচ বহন করে সরকার।
সরকারি কাজে বিদেশভ্রমণের জন্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হয় মার্কিন ডলারে। ভাতার পরিমাণ দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পান। আর সংসদ সদস্য হওয়ার পর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা পেয়ে থাকেন সংসদ সদস্যরা।
জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ টাকা পান। এ ছাড়া পরিবহন ভাতা তাঁরা মাসে পান ৭০ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া তাঁর নির্বাচনী এলাকার যাওয়া-আসার ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে আলাদা করে দেওয়া হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা করে।
সংসদ সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে প্লট পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি বাসা পান। তাঁদের বাসভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন ব্যয় পুরোটাই সরকার বহন করে। সরকারি বাসায় থাকতে না চাইলে সরকার একজন মন্ত্রীকে মাসে ৮০ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন। আর প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পান মাসিক ৭০ হাজার টাকা করে।
সরকারি বাড়ি সাজসজ্জা করতে একজন মন্ত্রী প্রতিবছর ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা করে পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে ৩ মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ টাকা পান তাঁরা।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সম্মানী ভাতা পান প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া টেলিফোন ভাতা মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা, মাসিক ক্রোকারিজ, টয়লেট্রিজ কেনার জন্য ভাতা ৬ হাজার টাকা করে পান তাঁরা।
নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা পান সংসদ সদস্যরা।
আপ্যায়ন ভাতা বাবদ একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা পান। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এ ভাতা পান ৫ হাজার টাকা করে।
নিজ এলাকার মসজিদ-মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রী বছরে পান ১০ লাখ টাকা। আর প্রতিমন্ত্রী পান সাড়ে ৭ লাখ ও উপমন্ত্রী পান ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া একজন সংসদ সদস্য বছরে পান ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল বার্ষিক ৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা, নানা ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনীসহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্প থেকে কারা সুবিধা পাবেন, তা সংসদ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশতেহার দিয়েছে, তাতে ক্ষমতার অপব্যবহার দূর করা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি আছে।
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মন্ত্রীরা সাইকেল চালিয়েও অফিস করতে যান—এমন উদাহরণের কথা উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই। তার ওপর নতুন কিছু চুক্তি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, যার দায় নির্বাচিত সরকারের ওপর পড়বে। এমন অবস্থায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় যতটা সম্ভব কমানো দরকার।