তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় তরুণেরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নেতৃত্ব দেবে।
স্টার্টআপ তহবিল গঠন: অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে নারী উদ্যোক্তা, নারী উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।
স্টার্টআপকে ভ্যাট অব্যাহতি: স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী ৯ বছরের জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। একইভাবে সেবা আমদানি এবং স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহিত পাচ্ছে স্টার্টআপ। শুধু তা–ই নয়, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর অব্যাহতি: বর্তমানে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা অন্যান্য সব ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রেও এখন প্রযোজ্য হবে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের আয় বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারের সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন বলে বাজেটে বলা হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করছাড়: তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে বাজেটে। একইভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, প্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ খাতে ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গোযায়ানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিদওয়ান হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানির ভ্যাট ও টার্নওভার কর মওকুফের সিদ্ধান্তটি অসম্ভব রকমের ভালো উদ্যোগ। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনলে উদ্যোক্তাদের দেড় শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার আগে স্টার্টআপকে পুঁজি সরবরাহ করতে ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে একটি কোম্পানি হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির প্রবৃদ্ধির জন্য খুবই সিরিয়াস।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে দেশব্যাপী ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে।
জানতে চাইলে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান সবজিগ্রামের সহ উদ্যোক্তা রাহাত কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব জায়গায় কর দেওয়ার কারণে আমাদের ব্যবসার খরচ বাড়ছে। বাজেটে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়াটা খুবই ইতিবাচক। এতে তরুণ উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে।’