
ভারতে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পক্ষে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ (জিরা) পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ জ্যঁ দ্রেজ।
৫ জুন ফ্রান্সের প্যারিস স্কুল অব ইকোনমিকসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি কনফারেন্সে জ্যঁ দ্রেজকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বৈষম্য নিয়ে বৈশ্বিক গবেষণায় অবদানের জন্য দুই বছর পরপর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডেটাবেজের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডেটাবেজ (ডব্লিউআইডি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য পরিমাপসংক্রান্ত গবেষণার পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এনআরইজিএ) এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন (এনএফএসএ) বাস্তবায়নের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দ্রেজকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণ করার সময় জ্যঁ দ্রেজ বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার একার নয়। আমার সব কাজই যৌথভাবে করা, পরিবর্তনকামী নানা ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে কাজ করি আমি।’
জ্যঁ দ্রেজ আরও বলেন, ‘ড.বি আর আম্বেদকর যথার্থভাবেই ভারতকে ‘বৈষম্যের জাদুঘর’ আখ্যা দিয়েছিলেন। এখানে বৈষম্যের প্রায় সব রূপই দেখা যায়—শুধু আকাশছোঁয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়, বর্ণপ্রথা, নারী-পুরুষের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য, শিক্ষার সুযোগপ্রাপ্তিতে বড় ব্যবধানসহ আরও অনেক কিছু। তবে আশার দিক হলো, ভারতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। আমি ভাগ্যবান, কিছু আন্দোলনের সঙ্গে আমি যুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছি।’
বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া জ্যঁ দ্রেজ ভারতীয় উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও অধিকারকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্য ও লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে কাজ করে আসছেন। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত তাঁর গবেষণা ও বইগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যঁ দ্রেজের কাজ কঠোর গবেষণা ও সামাজিক পরিবর্তনকামিতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। তাঁর গবেষণা নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। সেই সঙ্গে ভারতে অধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে দ্রেজের কাজ।