লিপস্টিক, ক্রিম, লোশন, ফেসওয়াশসহ রূপচর্চার ৭ প্রসাধনসামগ্রীতে কর ছাড়

ছবি: এআই/ প্রথম আলো
ছবি: এআই/ প্রথম আলো

গত বছর সৌন্দর্যচর্চার পণ্যে শুল্ক-করের চাপ বাড়িয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এক বছরের মাথায় সেই অবস্থান থেকে সরে এসে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন, ফেসওয়াশসহ সাত শ্রেণির পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমিয়েছে নতুন সরকার।

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপন করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্কহার অপরিবর্তিত রেখে শুধু ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানোর মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ কমবে। শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা বাজারে পৌঁছালে ভোক্তারাও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এর বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমতে পারে।

নতুন বাজেটে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন ও চার ধরনের ফেসওয়াশ—মোট সাত শ্রেণির পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এই সাত শ্রেণির পণ্য আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৪০৫ কোটি টাকা। তার বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৬৪২ কোটি টাকা।

কোথায় কত কমছে

লিপস্টিকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি কেজি ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। চলতি অর্থবছরের আমদানি বিবেচনায় এ পণ্য আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ১ কোটি টাকা কমতে পারে।

ত্বকের ক্রিমের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ১৪ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২২৬ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। সম্ভাব্য রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

ময়েশ্চার লোশন ও চার ধরনের ফেসওয়াশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৬১৩ টাকা শুল্ক-কর কমতে পারে। আর তাতে এসব পণ্য আমদানি খাতে রাজস্ব আয় কমতে পারে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

তবে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও সব চালান ওই মূল্যে শুল্কায়ন হবে না। পণ্যের মান, ব্র্যান্ড ও ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজস্বঘাটতিও কমে আসবে।

ভোক্তা কতটা সুবিধা পাবেন

আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর প্রথমে পরিশোধ করেন আমদানিকারকেরা। পরে সেই ব্যয় যুক্ত হয় খুচরা বিক্রয়মূল্যে। ফলে আমদানিতে খরচ কমলে বাজারেও দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বাস্তবে ভোক্তারা কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা কতটা মূল্য সমন্বয় করেন, তার ওপর।

ভ্রু-নখে বহাল আগের হার

সৌন্দর্যচর্চার সব পণ্যে ছাড় দেয়নি সরকার। লিপস্টিক, ফেসওয়াশ, ত্বকের ক্রিম ও ময়েশ্চার লোশনে শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলেও ভ্রু সাজানোর পণ্য এবং হাত-পায়ের সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বাড়ানো ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য এসব পণ্যে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে এ খাতের আমদানিকারকেরা নতুন কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে লিপ লাইনার, লিপ গ্লস ও লিপ জেল জাতীয় পণ্যে ন্যুনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

বাজেটে শুল্ক-করসংক্রান্ত প্রস্তাব সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। সে হিসেবে নতুন ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য বাজেট ঘোষণার দিন তথা বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে।