চলতি অর্থবছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার পরও অর্থনীতিতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সামনে জাতীয় নির্বাচন। নতুন সরকার এসে কেমন অর্থনীতি পাবে, তা নিয়ে জল্পনা–কল্পনা শুরু হয়েছে। এখনো মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের কারণে চাপে পড়েছে রপ্তানি খাত। তবে প্রবাসী আয় চাঙা আছে। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। চ্যালেঞ্জ আছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে। তাহলে প্রশ্ন–উত্তর পর্বের মাধ্যমে জেনে নিই কেমন আছে মানুষ, কেমন আছে অর্থনীতি।
চলতি অর্থবছরের ছয় মাস পেরিয়ে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রটা কেমন?
উত্তর: ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসে দেখা গেল, দেশের অর্থনীতি একধরনের চাপে আছে। তেমনি স্থিতিশীলতার বার্তাও আছে। এমন এক মিশ্র অবস্থায় আছে দেশের সার্বিক অর্থনীতি।
খাদ্যপণ্যের দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো বেশি। একই সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। রপ্তানি আয় পরিস্থিতিও আগের চেয়ে কিছুটা খারাপ হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো চালের দাম। এই চালের দাম কি কমেছে?
উত্তর: পুরোপুরি না। গত ডিসেম্বর মাসে চালের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। ডিসেম্বর মাসে চালের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। নভেম্বর মাসে এই হার ছিল ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ। চিকন চাল, মাঝারি মানের চাল ও মোটা চালসহ সব ধরনের চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে দাম বাড়ার গতি সামান্য কমেছে। কিন্তু বাজারে স্বস্তি ফেরার মতো অবস্থায় যায়নি।
চালের দামের প্রভাব কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ছে?
উত্তর: এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ২২–২৫ শতাংশ নির্ভর করে চালের দামের ওপর। তাই চালের দাম ওঠানামা করলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে। চালসহ খাদ্যপণ্যের দামই মূল্যস্ফীতির প্রধান চালক।
এক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে আছে। ডিসেম্বরে মাসে আগের মাসের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ঘরে আছে, তবে সহনীয় মাত্রার চেয়ে তা এখনো বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুসারে, গত ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। টানা তিন মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
তাহলে কোন পণ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে?
উত্তর: ভোজ্যতেল ও সবজির দাম কমার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমেছে। শীত মৌসুমের কারণে শাকসবজির দাম কমেছে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক অবদান বেড়েছে, যা সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছে।
দাম বাড়লেও মানুষের আয় কি একই হারে বাড়ছে?
উত্তর: না। মূল্যস্ফীতির সার্বিক পরিস্থিতি অনুসারে, এটি সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি কষ্টের বিষয়। মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো।
আপনার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আপনার আয় না বাড়লে আপনাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হবে।
মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।
বিবিএস বলছে, গত ডিসেম্বরে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এর মানে হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম।
এই মজুরি–দামের ব্যবধানের মানে কী?
উত্তর: এর মানে হলো—মানুষ আগের চেয়ে বেশি আয় পেলেও সেই আয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কিনতে পারছে না। এই ব্যবধান বাড়ার ফলে ভোগব্যয়, জীবনযাত্রার মান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
নানামুখী চাপের মধ্যেও অর্থনীতি চাঙা আছে কি, জিডিপি কি বেড়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, কিছুটা বেড়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আগের চেয়ে বেড়েছে।
কোন খাত প্রবৃদ্ধিতে কী ভূমিকা রেখেছে?
উত্তর: সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে শিল্প খাত। গত জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হলেও আগের বছরের সংকোচনের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। এই হার এ বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মানে হলো, শিল্প খাত আগের চেয়ে চাঙা হয়েছে।
ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কি বেড়েছে?
উত্তর: ঋণপ্রবাহ খুব বেশি বাড়েনি। সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ঋণপ্রবাহ দিয়েই অর্থনীতির নিকট ভবিষ্যতের গতিপথ দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের ভূমিকা বেশি।
উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, গত নভেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অক্টেবার মাসে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। উচ্চ সুদহার ও অনিশ্চয়তার কারণে ঋণ নেওয়ার গতি মন্থর রয়েছে
তাহলে ব্যাংকের টাকা কোথায় যাচ্ছে?
উত্তর: সরকারি খাতে ব্যাংকঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সরকারের অর্থায়নে ব্যয় হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকছে।
এর ফলে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। অবশ্য নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা হয়তো ধীরে চলো নীতি নিয়েছেন।
আমানতের অবস্থা কী?
উত্তর: এ বছরের নভেম্বর মাসে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। আমানত বাড়লেও ঋণ বিতরণ সেই হারে বাড়েনি।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের চিত্র কেমন?
উত্তর: চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) শুল্ক–কর আদায়ে ঘাটতি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছরের মতো শুল্ক–কর আদায়ে ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছে এনবিআর।
এনবিআরের হিসাব অনুসারে, গত জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। ফলে সরকারের আয়ে টান পড়ছে।
দেশের ডলার পরিস্থিতি কি কিছুটা ভালো হয়েছে?
উত্তর: ডলার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন ডলার–সংকট নেই বললেই চলে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এই ডলার–সংকট চরমে ওঠে। এখন ডলারের দাম ১২২ টাকায় মোটামুটি স্থিতিশীল হয়েছে।
এদিকে ডিসেম্বর মাস শেষে বিদেশি মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম পদ্ধতি অনুসারে, রিজার্ভ ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহ ও চলতি হিসাবে উন্নতি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
প্রবাসী আয়ে কী চিত্র দেখা যাচ্ছে?
উত্তর: দেশের প্রবাসী শ্রমিকেরা তাঁদের আয় পাঠানোর গতি বাড়িয়েছেন। প্রবাসী আয়প্রবাহ বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতায় সহায়তা করছে।
ডিসেম্বর মাসে আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। ফলে গত মার্চে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
রপ্তানি খাত কি সত্যিই ঘুরে দাঁড়াবে?
উত্তর: গত ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৪ শতাংশ, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। এ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৭ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪৬২ কোটি ডলারের পণ্য।
শুধু তা–ই নয়, টানা পাঁচ মাস রপ্তানি আয় কমে গেছে, যা দুশ্চিন্তার বলে মনে করছেন বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকেরা।
তাঁদের মতে, পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশটি থেকে ক্রয়াদেশ আসছে না।
অন্যদিকে চীন ও ভারতের ওপর বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় ওই দুই দেশের উদ্যোক্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের কম দামে পণ্য অফার করছেন। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
রপ্তানির মূল ভরসা কোন খাত?
উত্তর: বরাবরের মতোই তৈরি পোশাক খাত রপ্তানি আয়ের প্রধান চালক হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে মোট রপ্তানির বড় অংশ এসেছে এই খাত থেকে। রপ্তানি পুনরুদ্ধারের পেছনে তৈরি পোশাক খাতের অবদানই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই খাতের রপ্তানি কমলে সামগ্রিক রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ে।
তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য খাতগুলো কেমন করছে?
উত্তর: পোশাক ছাড়া অন্য রপ্তানি খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি সীমিত। এসব খাত রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে পারলেও মোট রপ্তানি বৃদ্ধিতে তাদের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে দেশের নির্ভরতা এখনো প্রধানত তৈরি পোশাক খাতের ওপরই রয়ে গেছে। রপ্তানির কাঠামো এখনো সীমিত কয়েকটি খাতনির্ভর থাকায় ঝুঁকি রয়ে গেছে।
আমদানির অবস্থা কী? দেশ কি এখনো বেশি আমদানি করছে?
উত্তর: বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর দেশ। আমদানির জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। প্রতি মাসে গড়ে ৫–৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে ৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি করতে হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিশ্ববাজারের পণ্যের বাড়তি দাম এখনো আমদানি খরচকে উচ্চপর্যায়ে ধরে রেখেছে।
কোন ধরনের পণ্য আমদানিতে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে?
উত্তর: জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানিই আমদানি খরচের বড় অংশজুড়ে আছে। একই সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে, যা বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডের মন্থরতার ইঙ্গিত দেয়।
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমার অর্থ কী?
উত্তর: মূল যন্ত্রপাতি আমদানির দুর্বলতা ইঙ্গিত দেয় যে নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণ এখনো জোরালো হয়নি। নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন না উদ্যোক্তারা, যা কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ বিদ্যমান উৎপাদন কিছুটা সচল থাকলেও নতুন বিনিয়োগে গতি সীমিত আছে।
২০২৬ সাল কেমন হতে পারে?
উত্তর: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রাক্কলন অনুসারে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে কাঠামোগত নানা চ্যালেঞ্জের চাপ আছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক বলছে, এ বছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫ শতাংশ এবং আইএমএফ ৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার আশা করা হলেও অর্থনীতিকে টেকসই পথে এগিয়ে নিতে সুশাসন ও নীতির ধারাবাহিকতা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অপরিহার্য। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বাইরে গিয়ে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যখন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এবং একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীল ও সংস্কারমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বুদ্ধিভিত্তিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাংলাদেশকে স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে উচ্চ মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, এনবিআর, বিবিএস, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইপিবি