ঢাকা সফররত ইউকেইএফের প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ নির্বাহী পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে
ঢাকা সফররত ইউকেইএফের প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ নির্বাহী পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে

বাংলাদেশি প্রকল্পে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন করবে ইউকেইএফ

যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের কথা জানিয়েছে। যেসব প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ব্যবহার করা হবে, সেগুলোই পাবে এ অর্থায়ন–সুবিধা।

বাংলাদেশের জন্য ইউকেইএফের বর্তমানে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। এ অর্থ পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঢাকা সফররত ইউকেইএফের প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের নির্বাহী পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাদের অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। আইসিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে।

সফররত প্রতিনিধিদলটিতে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল; ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালে ইউকেইএফের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার হেড অব ট্রেড পলিসি রোহিনী আগারওয়াল। প্রতিনিধিদলটি গতকাল বুধবার তিন দিনের সফরে ঢাকা আসে।

বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো চাহিদা ও সম্প্রসারিত বেসরকারি খাত যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো খাতে ইউকেইএফের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের দক্ষতা ও অর্থায়ন কাজে লাগানো যায়—এমন বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প চিহ্নিত করতে ইউকেইএফ, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড এবং ব্রিটিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী আইসিসি বাংলাদেশ।

বৈঠকে ইউকেইএফ প্রতিনিধিদল তাদের বিভিন্ন অর্থায়ন–সুবিধা সম্পর্কে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যদের অবহিত করে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা যুক্ত রয়েছে—এমন উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের প্রকল্পে কীভাবে ইউকেইএফের অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে, তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এই অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে, সেসব নিয়েও আলোচনা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে আমরা সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত জানতে পারছি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন বাংলাদেশের উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সুযোগগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।’

ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স  গ্যারান্টি, ঋণ ও বিমাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা যুক্ত রয়েছে—এমন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক শর্তে অর্থায়ন পেতে এসব সুবিধা সহায়তা করে। ইউকেইএফ ৬০টির বেশি স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন–সুবিধা দিতে পারে।