প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর পাকিস্তানে টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন। গতকাল ইসলামাবাদের আল্লামা ইকবাল উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকি মিলনায়তনে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর পাকিস্তানে টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন। গতকাল ইসলামাবাদের আল্লামা ইকবাল উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকি মিলনায়তনে

বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ জন্য দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে যুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গতকাল সোমবার ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ঢাকায় আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের ৩০০ জনের বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে শতাধিক নারী রয়েছেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল।

এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এসব বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতা পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তিনি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে যুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা উচিত, যা স্থানীয় উৎপাদনসক্ষমতা বাড়ায়, প্রযুক্তি হস্তান্তর করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের ব্যয় বর্তমানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সুষম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যুদ্ধ, জ্বালানিসংকট এবং বিগত সরকারের শাসনামলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং চত্বরে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।