সকাল থেকেই বিক্রির উদ্দেশে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকেরা
সকাল থেকেই বিক্রির উদ্দেশে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকেরা

পাট পণ্য

সোনালি আঁশের বাণিজ্য

পাবনার চাটমোহর পাটের ব্যবসার এক প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র। এই অঞ্চলের অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম ছিল পাট। বৃহত্তর চলনবিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সোনালি আঁশ বিপণনের হাঁকডাক এখনো আছে চাটমোহরের সাপ্তাহিক হাটগুলোয়। এই হাটে চলছে কাঁচা পাটের জমজমাট বেচাকেনা।

বিশ শতকের শুরুতে রেললাইন চালুর পর থেকে এই রেলবাজারে পাটের বেচাকেনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে মৌসুমের সময় এই হাটে পাটের প্রচুর সরবরাহ হয়। স্থানীয় কৃষকেরা নৌকা, ভ্যান ও ট্রাকে করে তাঁদের উৎপাদিত পাট এই বাজারে নিয়ে আসেন। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাটের বিশাল স্তূপ আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে আছে পুরো এলাকা। পাটের গুণগত মান, বিশেষ করে আঁশের দৈর্ঘ্য ও রঙের ওপর ভিত্তি করে দরদাম নির্ধারিত হচ্ছে। এখান থেকে পাট কিনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন জুট মিলে সরবরাহ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নগদ অর্থের প্রবাহ তৈরি করছে। তবে আগের তুলনায় দাম ও চাহিদা কিছুটা কম থাকায় আবাদ কম হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে কমছে পাটের বাণিজ্য।

বর্তমান পাটের বাজার ও বেচাকেনা সম্পর্কে হাটের নিয়মিত এক পাট ব্যবসায়ী মো. আবদুল হাসান বলেন, চাটমোহরের পাটের মান বরাবরই খুব ভালো। এ বছর হাটে পাটের সরবরাহ ভালো হচ্ছে এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের আঁশও বেশ উজ্জ্বল। ভালো দাম পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে, আবাদও বাড়বে।

আধুনিকায়নের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধিতে পাটে চ্যালেঞ্জ থাকলেও চাটমোহর তার পাটের ঐতিহ্য শক্তভাবে ধরে রেখেছে।