
পোশাক খাতের বিভিন্ন সংগঠন কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সেই সঙ্গে জানিয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের ঘুষ, দুর্নীতি ও অত্যাচার বন্ধ হলে তারা আর কর কমানোর কথা বলবে না।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, সবাই কর কমানোর কথা বললে রাজস্ব আয় বাড়বে কীভাবে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে আজ রোববার পোশাক খাতের ১০টি সংগঠনের সঙ্গে এনবিআরের প্রাক্–বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
আলোচনায় বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি এম শাহাদাৎ হোসেন এনবিআর চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘আপনি ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করেন। তাহলে আর কোনো দিন কর কমাতে বলব না। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তাদের অত্যাচার বন্ধ করেন, যা চাইবেন (কর), তাই দিব।’
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সাত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে বলে জানান নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘বন্দরে পণ্য পরীক্ষা–নিরীক্ষা করতে দেরি হয়। প্রাপ্যতা অনুমতি নিতে দেরি হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিতে হয় আমাদের। অঙ্গীকার (আন্ডার টেকিং) নিয়ে আমাদের পণ্য খালাস করে দেন, আমরা তো পালিয়ে যাব না।’
বর্তমান সময়ে সোলার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, লিথিয়াম ব্যটারি আমদানির কিছু বিধিনিষেধ আছে, সেগুলো দেখা দরকার।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পরীক্ষা–নিরীক্ষার বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। তাই সেখানে গিয়ে এই ঝগড়া করতে হবে। তবে সোলার নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে ক্রয়াদেশ বাতিল হয়। তাই আমরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে কাজ করি। কিন্তু সেখানে কর-ভ্যাট থাকা যৌক্তিক না। কর–ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।’ তিনি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য এক্সিট পলিসি প্রণয়নেরও তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সুতার ওপর ভ্যাট হ্রাসের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশি সুতায় প্রতি কেজিতে ভ্যাট পাঁচ টাকা। এটা কমিয়ে দুই টাকা করা হোক। তিনি রপ্তানি ভর্তুকির ওপর অগ্রিম আয়কর বাতিলের দাবি জানান। বলেন, ভর্তুকির ওপর কর—এটা শুনতেও কেমন লাগে। যন্ত্র আমদানির ছাড়পত্রও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এ কে এম সাইফুর রহমান এ খাতে শুল্কছাড়ের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘স্যাম্পল নিয়ে আমাদের অনেক কুরিয়ার আসে। কিন্তু এসবে কর-শুল্ক দিতে হয়। শুল্ক ছাড়া এটা ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক।’ এ ছাড়া পাশাপাশি স্থলবন্দর চালু না থাকায় ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের নমুনা আমদানির বিষয়টি বিজিএমইএর মতো করা যায়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রচ্ছন্ন রপ্তানির সংজ্ঞায়ন নিয়ে আপত্তি জানায়। সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে প্রাপ্যতা অনুমোদন পেতে দেরি হয়। এটা দুই বছরের জন্য দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) কর অবকাশ বৃদ্ধির দাবি জানায়। সংগঠনটির সদস্য মুশফিকুর রহমান অপারেটিং সিস্টেমে মোট করহার ৪৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার দাবি জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যুগের পর যুগ কর–অবকাশ দাবি করা ঠিক নয়।
সভায় সরকারি সংস্থা বেজা ও বিডার পক্ষ থেকে কথা বলেন সংস্থা দুটির নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহের কথা জানান।