আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের গৌরবময় গণ-অভ্যুত্থানের ফলে তৈরি হওয়া নতুন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের এই অনন্য অভিযাত্রার শুরুতেই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আমরা নতুন ও তীব্রতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি গোটা বিশ্বে যে নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মেরুকরণের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা গোটা বিশ্বকে এবং বিশেষ করে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। দেশের অর্থনীতির ভগ্নদশার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি।’
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে জনমিতিক সুবিধা ও দীর্ঘজীবিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও অর্জন করবে। সেই লক্ষ্যের আলোকে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।’
গত মে মাসে দেশের সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী সাময়িক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।