ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের সিএমএসএমইর আওতায় নেওয়ার দাবি

দেশের ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্র শিল্প বা সিএমএসএমই খাতে নিয়ে এসে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। একই সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ ও বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান এ দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি আকারেও এ দাবি উত্থাপন করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে প্রায় ৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী আছেন। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় বাজারব্যবস্থা সচল রাখতে রাজধানীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে তাঁরা ‘চরম সংকটে’ আছেন।

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বলেছে, আশঙ্কাজনকভাবে ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ছোট ব্যবসায়ী মূলধন ভেঙে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। কারও কারও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ব্যবসায়ীনেতারা বলেন, সরকার বিভিন্ন সময় ক্ষুদ্র শিল্প ও উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ, পুনঃ অর্থায়ন ও প্রণোদনা দিলেও নীতিগত স্বীকৃতির অভাবে ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের পুঁজিতে কর্মসংস্থান তৈরি করলেও সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না।

সংকট উত্তরণে সমিতির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের সিএমএসএমই বা ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি। অতিরিক্ত জামানত ও কাগজপত্রের জটিলতা এড়িয়ে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া।

বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, অবৈধ সার্ভিস চার্জ ও দখলদারি বন্ধের দাবি জানিয়েছে দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহনসহ ব্যবসা পরিচালনার সার্বিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।