সালেহউদ্দিন আহমেদ
সালেহউদ্দিন আহমেদ

বিদায় সংবর্ধনা

নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য উত্তরাধিকার নোট রেখে যাবেন অর্থ উপদেষ্টা

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা বিদায় সংবর্ধনা নিচ্ছেন। আজ রোববার অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ; বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন।

তবে আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্বে থাকবেন। শপথের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ রোববার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে। সংবর্ধনার পর এই উপদেষ্টা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, দেড় বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কষ্ট হলেও সময়টি উপভোগ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই সময় ছিল ‘খুব এক্সাইটিং’। মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

# মঙ্গলবার শপথের আগপর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন উপদেষ্টারা। # চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ। # দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকে ‘এক্সাইটিং’ অভিজ্ঞতা বললেন তিনি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যাংক খাতের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য কয়েক পৃষ্ঠার সাকসেসর বা উত্তরাধিকার নোট রেখে যাবেন, যাতে দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ এগিয়ে নিতে সুবিধা হয়। তাঁর মতে, পরবর্তী সরকারের উচিত হবে নতুন কাজ শুরুর বদলে চলমান সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থ উপদেষ্টা সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। টিমওয়ার্ক ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও পদোন্নতি নিয়ে ভাবলে চলবে না।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বেলা দেড়টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। পরে তাঁর কার্যালয়ে আসেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, ডেপুটি গভর্নর আহসান হাবিব, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া প্রমুখ।

অর্থ বিভাগের নিজস্ব ভবনের চতুর্থ তলায় সবার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন অর্থ উপদেষ্টা। পরে একই ভবনের ১৮ তলায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরগুলোর সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সচিবেরা অর্থ উপদেষ্টার কাছে সাকসেসর নোট হস্তান্তর করেন। এতে ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার ও তাঁর গত দেড় বছরের কাজের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থ উপদেষ্টা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ধীরস্থিরতা ছিল শিক্ষণীয়।

অন্য সচিবেরা বলেন, শুরুতে সকালে সচিবালয়ে আসা কঠিন হলেও পরে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন এবং কাজের মানোন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর প্রকল্প উপদেষ্টার নির্দেশনায় ভালো পর্যায়ে এসেছে; নতুন ধারণা উপস্থাপন করলে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন।

এদিকে শেখ বশিরউদ্দীন আজ রোববার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় সংবর্ধনা নেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার দুপুর ১২টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেলা আড়াইটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিনি আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবেন।