আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বিসিএসএর সৌজন্যে।
আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বিসিএসএর সৌজন্যে।

বিদ্যুৎ বিলে ২০% ছাড় ও আলু রপ্তানিতে ৩০% প্রণোদনা চান হিমাগারমালিকেরা

আলুর দাম কমে আসায় সংকটে পড়েছে হিমাগার খাত। এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) দাবি, এই খাত টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে আলু রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসএর সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল ও মূল্যস্ফীতির কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংগঠনটির দাবি, কৃষি খাতের আওতায় হিমাগারশিল্পকে বিবেচনা করা হোক। পাশাপাশি ৬ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন বা বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এ তহবিল থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ চায় সংগঠনটি।

মোস্তফা আজাদ বলেন, বর্তমানে আলু রপ্তানিতে যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়। রপ্তানি বাড়াতে এ হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচিতে আলুচাষিদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান মোস্তফা আজাদ। এতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন তাঁরা।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দুই লাখ টনের বেশি আলু হিমাগারে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে ছিল। বাজারদর কম থাকায় মালিকেরা এসব আলু উত্তোলন করেননি। এতে আলুর সংরক্ষণের ভাড়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হিমাগারের মালিকেরা।

বাজারে আলুর ব্যবহার বাড়াতে সরকারের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও রেশনিং কর্মসূচিতে আলু অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায় বিসিএসএ।

বিসিএসএর তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে দেশে ১ কোটি ১২ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। চলতি বছরে উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

এ বছর খামার পর্যায়ে আলুর দাম প্রতি কেজি ৫-৯ টাকায় নেমে গেছে। হিমাগার থেকে বিক্রি হয়েছে ১২-১৮ টাকা দরে। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮-৩০ টাকা কেজি দরে।