
পেশাজীবীদের জন্য গাড়ি কেনাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সুবিধা দিচ্ছে প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকটি কাস্টমাইজড প্যাকেজ, নারী গ্রাহকদের জন্য সবুজ অর্থায়ন ও অ্যাপ ব্যবহারে গাড়ির ঋণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অটো লোন সুবিধা, ইভি অর্থায়ন এবং গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক।
ডাক্তার, প্রকৌশলী ও করপোরেট পেশাজীবীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের অটো লোনে কী কী বিশেষ সুবিধা রয়েছে?
ফয়সাল রহমান: বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও করপোরেট কর্মকর্তাদের জন্য সময় বাঁচানো এবং দ্রুত সেবা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রাইম ব্যাংক পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ কাস্টমাইজড অটো লোন প্যাকেজ সাজিয়েছে। এখানে আমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, সহজ ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া এবং সুবিধাজনক মেয়াদের কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল গাড়ি কেনায় ঋণ দেওয়া নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঝামেলামুক্ত রাখা। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিশেষ মূল্যছাড়, আকর্ষণীয় অফার এবং সেরা বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধা পাচ্ছেন।
নারী গাড়িচালকদের জন্য হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি অর্থায়নে সুদের হার বা প্রসেসিং ফিতে কোনো সুবিধা আছে কি?
ফয়সাল রহমান: প্রাইম ব্যাংক টেকসই অর্থায়ন ও নারীর ক্ষমতায়নকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। আমাদের বিশেষায়িত ‘নীরা’ উইমেন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী গ্রাহকদের ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় সাশ্রয়ী প্রসেসিং ফি, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার ও দ্রুত ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের যাতায়াত সহজ ও পরিবেশবান্ধব করতে আমরা ইলেকট্রিক টু-হুইলার অর্থায়নের উদ্যোগও নিয়েছি।
আপনাদের করপোরেট পে-রোল গ্রাহকদের জন্য অটো লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সহজ?
ফয়সাল রহমান: পে-রোল গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়া হওয়া উচিত সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল। যেহেতু ব্যাংকের কাছে তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব ও আয়ের ধারাবাহিকতার তথ্য পূর্ব-যাচাইকৃত থাকে, তাই ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে গ্রাহকেরা সামান্য নথিপত্র জমা দিয়েই দ্রুততম সময়ে ঋণছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। আমাদের ‘মাইপ্রাইম’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা খুব সহজেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সমাধান পান। কম সময়ের প্রসেসিং, আকর্ষণীয় সুদের হার এবং ডেডিকেটেড গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
প্রথাগত গাড়ির তুলনায় হাইব্রিড ও ইভি গাড়ি ক্রয়ে ডাউন পেমেন্ট ও সর্বোচ্চ ঋণের সীমানায় কীভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?
ফয়সাল রহমান: পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে আমরা সুনির্দিষ্ট সুবিধা দিচ্ছি। হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়িতে মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিন যানবাহনের প্রাথমিক আর্থিক বাধা দূর করে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।
অটো লোনের প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন ও অন্যান্য চার্জের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেমন ছাড় চলছে?
ফয়সাল রহমান: আমরা নিয়মিত সময়ে ফি ও চার্জের ওপর বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি। আমাদের নিজস্ব পে-রোল গ্রাহকদের জন্য লোন প্রসেসিং ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং বিশেষ সুদের হারের অফার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অংশীদার শোরুমগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকেরা অতিরিক্ত মূল্যছাড় ও বিশেষ প্রিভিলেজ পাচ্ছেন।