সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশ থেকে ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির এই পরিমাণ আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম।
অন্যদিকে গত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শীর্ষ পাঁচ খাতের তিনটিতে রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে; রপ্তানি বেড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোমটেক্সটাইল পণ্যের।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঈদের কারণে লম্বা সরকারি ছুটি ছিল। এ জন্য পোশাকসহ কিছু খাতে রপ্তানি কিছুটা কমতে পারে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আজ বুধবার পণ্য রপ্তানি আয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে প্রায় ১০ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে। এপ্রিল মাসে প্রায় ৪০১ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এসেছিল। তবে গত মে মাসের রপ্তানির পরিমাণ গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। গত বছরের মে মাসে প্রায় ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক খাতে মে মাসে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ মে মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট আয় এসেছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাত থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মে মাসে ৩৯২ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এসেছিল। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় মে মাসে তৈরি পোশাক খাতে ৮ শতাংশের বেশি রপ্তানি কমেছে।
তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্য দুটি প্রধান খাতেও গত বছরের মে মাসের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার আয় এসেছে। গত বছরের মে মাসে এই খাত থেকে সাড়ে ১২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অর্থাৎ রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
কৃষিপণ্য রপ্তানি করে মে মাসে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার। গত বছরের মে মাসে এ খাত থেকে ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় এসেছিল। সে হিসাবে এ খাতে রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ।
অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে। গত মাসে এ খাত থেকে ৯ কোটি ১৬ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। এর মধ্যে পাট সুতা থেকেই এসেছে প্রায় ৫ কোটি ডলার। গত বছরের মে মাসে এই খাত থেকে ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এই খাতে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।
মে মাসে হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। মে মাসে এ খাত থেকে ৮ কোটি ৭২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া গত মে মাসে প্লাস্টিক পণ্য খাত থেকে ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি করে ২ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তখন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তারপর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসেই পণ্য রপ্তানি কমেছে। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে রপ্তানি আবার ইতিবাচক ধারায় ফেরে। এপ্রিলে মোট ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।