সিগারেটের ফিল্টার ও নিকোটিন পাউচে সম্পূরক শুল্কে ছাড়

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। শেষ সময়ে তামাক খাতের কর প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার সংশোধনীসহ যে অর্থবিল পাস করা হয়েছে, সেখানে এই পরিবর্তন আনা হয়।

সংশোধিত অর্থবিলে তামাকের ফিল্টার আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমানো হয়েছে। এ ছাড়া নিকোটিন পাউচে উৎপাদন পর্যায়ে ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কমানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিলের এই সংশোধনী প্রস্তাব করেন; পরে তা পাস হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত অর্থবিলে সিগারেট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল ফিল্টার এবং ফিল্টার তৈরির উপকরণ অ্যাসিটেট টু বা সেলুলোজ অ্যাসিটেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই হার ১০০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেই হিসাবে এই খাতে সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমানো হয়েছে।

একইভাবে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের কাঁচামালেও সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। নিকোটিন পাউচ বা নিকোটিনযুক্ত থলে একটি তামাকপণ্য। এবার প্রথমবারের মতো ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। নতুন করে করের আওতায় আনা এই পণ্যটিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত গ্রানুলস আমদানিতেও শুল্ক কমানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়েও শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ৪০ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে অবৈধ সিগারেটের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমে গেছে। এই অবস্থায় শুল্কের কারণে সিগারেটের দাম নতুন করে আরও বাড়ানো হলে তাতে রাজস্ব আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ, নিয়মিত করদাতা কোম্পানিগুলোর ওপর করের চাপ বাড়লে তাতে সিগারেটের দাম বাড়বে। আর দাম বাড়লে ধূমপায়ীরা করের আওতার বাইরে থাকা সিগারেটের প্রতি বেশি ঝুঁকবেন। এই বিবেচনায় এই খাত থেকে কর আদায় বাড়াতে প্রস্তাবিত বাড়তি শুল্কে কিছুটা ছাড় দিয়েছে সরকার।

তবে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, সিগারেট এমনিতেই সহজলভ্য। প্রস্তাবিত কর কমানো হলে তাতে সিগারেট কোম্পানিগুলো লাভবান হবে। তার বিপরীতে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। এ ছাড়া নিকোটিনের পাউচে কোনো সুবিধা না দিয়ে বরং নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি।

হীরায়ও একক ভ্যাট

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার স্বর্ণ বেচাবিক্রিতে একক ভ্যাট হার চালু করছে। মোট মূল্যের ৫ শতাংশের বদলে আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার স্বর্ণের পাশাপাশি হীরাতেও একক ভ্যাট হার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, নতুন নিয়মে ডায়মন্ড বা ডায়মন্ডের তৈরি জিনিসে প্রতি গ্রামে আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এ ছাড়া রুপার অলংকারেও প্রতি ভরিতে ১০০ টাকা, প্লাটিনামের তৈরি অলংকারে প্রতি ভরিতে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট।