
আগামী বাজেটে রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। বারভিডা নেতারা জানান, বর্তমান জ্বালানি প্রেক্ষাপটে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড ও প্লাগ ইন হাইব্রিড (পিএইচইভি) গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানো উচিত। আর পুরোনো গাড়ি আমদানির বয়সসীমা ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৮ বছর করার প্রস্তাব দেন বারভিডার নেতারা। এ সময় মাইক্রোবাস ও পিকআপের আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানান তাঁরা।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বারভিডা নেতারা। দেশের জ্বালানিসংকট পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী মোটরযান ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে যৌক্তিক শুল্ক নির্ধারণ এবং যথাযথ আমদানি নীতিমালা করার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বারভিডা।
বারভিডার নেতারা বলেন, আসন্ন বাজেটে এসব সুবিধা প্রদান করা হলে গাড়ির মূল্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা, জ্বালানি ব্যয় ও বাজার সম্প্রসারণে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক। তিনি বলেন, দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির খাত এগিয়ে নিতে সরকার ‘ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ করছে। নীতিমালায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেছে। তবে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে চার্জিং অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জলাবদ্ধতায় ব্যবহারযোগ্যতা ও সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাই হাইব্রিড এবং প্লাগ ইন হাইব্রিড গাড়ি যেহেতু ইলেকট্রিক গাড়ির সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, তাই রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর কমানো উচিত।
আবদুল হক আরও বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড বলা হলেও আমরা যেসব জাপানিজ ডোমেস্টিক মডেল (জেডিএম) গাড়ি আমদানি করি, সেগুলো নতুনের মতো। দেশে এসব মোটরযানের ভালো পুনঃ বিক্রয়মূল্য রয়েছে। এ ছাড়া সহজে রক্ষণাবেক্ষণসহ খুচরা যন্ত্রাংশ সহজে ও সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।
ভ্যাট নিয়ে হয়রানি
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান বলেন, ‘সরকার চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ভ্যাট নিরীক্ষা (অডিট) করতে পারে। কিন্তু ভ্যাট নিরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন সময়ের কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অডিটের জন্য করোনার সময়ের হিসাব নিয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সে সময় হিসাবপত্র নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ বা অফিসে গিয়ে কাজ করা বাস্তবসম্মত ছিল না। তাই এসব চেয়ে আমাদের রীতিমতো হয়রানি করা হচ্ছে।’
এ সময় বারভিডার নেতা হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ভ্যাট নিরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। নিরীক্ষার ক্ষেত্রে দৈবচয়ন ভিত্তিতে (এলোমেলোভাবে) ৫-১০ শতাংশ ব্যবসায়ীর ভ্যাট নিরীক্ষার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে এই নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। সবার কাছে গত সাত বছরের হিসাব চাওয়া হচ্ছে। এক ব্যবসায়ীকে ৪ কোটি টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে। সেই ব্যবসায়ী কি আর ব্যবসা করবে? সে তো বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ও ফরিদ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল হোসেন, ট্রেজারার মো. সাইফুল আলমসহ প্রমুখ।