
রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলা। আগামী বুধবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই মেলায় সব মিলিয়ে ৮০০টি স্টল থাকবে।
মেলায় দেশের প্লাস্টিক শিল্পের ১৬০টি ছোট–বড় প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে। এ ছাড়া চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ মোট ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ড এই মেলায় অংশ নিবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিপিজিএমইএর সভাপতি সামিম আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিজিএমইএর সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন ও কাজী আনোয়ারুল হক। আরও ছিলেন বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ইউসুফ আশরাফসহ প্রমুখ। মেলার আয়োজন করছে বিপিজিএমইএ ও ইয়র্কার্স ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস কোম্পানি।
মেলায় আরও যা থাকছে
১৮তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কৃষিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার’। চার দিনব্যাপী এই মেলা ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত হবে। মেলা বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক মোল্ড, ক্রোকারিজ ও খেলনা, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক ফার্নিচার, মেলামাইন সামগ্রী, তৈরি পোশাক শিল্পের অ্যাকসেসরিজ পণ্য প্রদর্শিত হবে।
এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য তৈরির যন্ত্র ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক ইনজেকশন মোল্ডিং যন্ত্র, পিপি ওভেন ব্যাগ যন্ত্র, প্যাকেজিং যন্ত্র, ফ্লেক্সোগ্রাফিক প্রিন্টিং যন্ত্র, পিইটি ব্লো যন্ত্র ও প্লাস্টিক ব্যাগ তৈরির যন্ত্রসহ ইত্যাদি।
মেলার প্রথম দিন প্লাস্টিক খাতের পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং), শিল্পভিত্তিক পারস্পরিক সহাবস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনের ভবিষ্যৎ বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় দিনে ‘প্যাকেজিং খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পণ্য চিহ্নিতকরণ’ ও ‘এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্লাস্টিক খাত উন্নয়ন নীতি’ শীর্ষক দুটি আলাদা সেমিনার আয়োজিত হবে।
রপ্তানিতে প্লাস্টিক পণ্য ১২তম
সংবাদ সম্মেলনে বিপিজিএমইএর সভাপতি সামিম আহমেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্লাস্টিক রপ্তানি খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্লাস্টিক শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৪ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার করা হয় আর বাকি ১৬ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। প্লাস্টিক উৎপাদনে দেশে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশের বেশি।
সামিম আহমেদ আরও বলেন, দেশের রপ্তানিতে বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের অবস্থান ১২তম। তবে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির হিসাব করলে রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্লাস্টিক পণ্যের অবস্থান হবে ষষ্ঠ। প্লাস্টিক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে।
বিপিজিএমইএর সভাপতি সামিম আহমেদ আরও বলেন, মেলায় দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উদ্ভাবনী মেলায় প্রদর্শিত হবে। এর ফলে দেশে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।