রঙের ছোঁয়ায় বর্ণিল হচ্ছে অন্দরমহল। সৃজনশীল রঙের কারুকার্যে ব্যস্ত দুজন। মডেল: রাজ ও অবন্তীকা
রঙের ছোঁয়ায় বর্ণিল হচ্ছে অন্দরমহল। সৃজনশীল রঙের কারুকার্যে ব্যস্ত দুজন। মডেল: রাজ ও অবন্তীকা

ঘরের দেয়ালে রঙিন অনুভূতি

নির্মাণ প্রতিবেদক

শোবার ঘরটা দীর্ঘদিন হালকা হলদেটে ছিল। কিন্তু এবার ইপ্সিতা রহমান সেটা বদলে করেছেন ‘অ্যাপল হোয়াইট’। পেশায় ব্যাংকার ইপ্সিতার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি কাটাতেই আসবাবে মিল রেখে এই পরিবর্তন। তবে শোবার ঘর বদলালেও খাবার ঘরের রং তিনি হলুদই রেখেছেন। কারণ, সেখানে তিনি চান একধরনের উষ্ণ আমেজ। ইপ্সিতার কাছে ঘরের একেকটি দেয়াল মানে একেকটি অনুভূতি। তিনি বলেন, ‘ঘরের সঙ্গে, রঙের সঙ্গে আমাদের অনেক কথা ও স্মৃতি মিশে থাকে।’

রঙের মনস্তত্ত্ব ও ব্যক্তিগত ভালো লাগা

রঙের সঙ্গে মানুষের মনের যোগসূত্র গভীর। যুক্তরাজ্যভিত্তিক লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন হাউস অ্যান্ড গার্ডেন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রঙের সঙ্গে মানুষের অনুভূতির বিষয়টি যেমন ব্যক্তিগত, তেমনি সাংস্কৃতিক। কোনো নির্দিষ্ট রং একজনের কাছে প্রশান্তি বয়ে আনলে অন্যজনের কাছে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে এখন ‘কালার থেরাপি’ বা ‘ক্রোমোথেরাপি’ বেশ জনপ্রিয়। রঙের মাধ্যমে মানুষের শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলাই এর মূল লক্ষ্য। অন্দরসজ্জায় এখন অনেকেই এই থেরাপির কথা মাথায় রাখছেন। যেমন তাহমিনা আক্তার ও রাসেল আহমেদ দম্পতির কথাই ধরা যাক। বর্তমানে যে বাড়িতে তাঁরা থাকছেন, সেটির রং আগে ছিল সবুজ। বাসাটি পছন্দ হলেও সবুজ রংটি তাহমিনার মনে বিষণ্নতা তৈরি করত। ফলে ওঠার আগেই মালিককে বলে তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো রং করিয়ে নিয়েছেন।

শৌখিনতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থায়িত্ব ও প্রযুক্তি

আধুনিক অন্দরসজ্জায় মানুষ এখন কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে রং বেছে নেন না; বরং পরিবেশ, আবহাওয়া এবং স্থায়িত্বের মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। আগে যেখানে সস্তা ‘ডিসটেম্পার’ রঙের একচেটিয়া দাপট ছিল, এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ‘ইমালশন পেইন্ট’।

রেইনবো পেইন্টসের বিপণন বিভাগের প্রধান রিয়াজুল করিম খান প্রথম আলোকে জানান, মানুষের চাহিদায় এখন বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ডিসটেম্পার থেকে সরে এসে মানুষ এখন পরিবেশ, স্বাস্থ্যগত বিষয়, স্থায়িত্বসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়েছেন। এ কারণে এখন ইমালশন পেইন্ট পছন্দ করছেন। মানুষ এখন এমন রং চান, যা সহজেই পরিষ্কার করা যায়। বিশেষ করে বাসায় বাচ্চা থাকলে দেয়ালে আঁকিবুঁকি বা দাগ পড়ার ভয় থাকে। ইমালশন পেইন্ট হলে সেসব দাগ মুছে ফেলা সহজ হয়। এ ছাড়া ঘরকে উজ্জ্বল দেখাতে অনেকেই ‘শাইনি’ রং পছন্দ করছেন।

স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ‘গ্রিন পেইন্ট’

রঙের গন্ধে অনেকের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জি হতে পারে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ‘লো ভিওসি’ (ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড) বা ‘গ্রিন পেইন্ট’-এর চাহিদা বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব এসব রং ঘরের বাতাসকে বিষাক্ত করে না। স্বাস্থ্যগত এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ইকো–ফ্রেন্ডলি পেইন্ট তৈরি করা হয় বলে জানান রিয়াজুল করিম খান। তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় রঙের স্থায়িত্ব কমে যায়। তাই রেইনবো পেইন্টসের ‘অলরাউন্ডার’ পেইন্টের মতো আধুনিক রংগুলো দেয়ালের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।  

জনপ্রিয় রঙের তালিকায় যা আছে

বাজারে বর্তমানে অফ হোয়াইট, অ্যাপল হোয়াইট, লাইট গ্রিন, পিচ ইয়েলো এবং ব্রিক রেড রঙের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

আলো-বাতাস: ঘরে প্রাকৃতিক আলোর চলাচল কেমন, তা বুঝে রং নির্বাচন করা উচিত। 

উদ্দেশ্য: ঘরটি কী কাজে ব্যবহৃত হবে (বিশ্রাম না কাজ), তার ওপর ভিত্তি করে ঠান্ডা বা উষ্ণ রং বেছে নিন।

পরিবেশবান্ধবতা: স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় ইকো-ফ্রেন্ডলি রংকে প্রাধান্য দিন।