আধুনিক বাসস্থানের মূল আকর্ষণ এখন বাথরুম ও কিচেন। দিনের ক্লান্তি শেষে একটুখানি প্রশান্তির জন্য বাথরুম যেন ঘরেই এক টুকরা ‘স্পা’, আর কিচেন হয়ে উঠেছে আভিজাত্যের মুক্ত ক্যানভাস। আধুনিক নির্মাণ উপকরণের ছোঁয়ায় এই চেনা পরিসরগুলোতে এখন মিলেমিশে একাকার পরম স্বাস্থ্যবিধি ও আধুনিক বিলাসিতা।
রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন শৌচকর্মের মতো জরুরি কাজে ব্যবহার করা বাড়ির এই অংশ দুটিকে আগে কেবল লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হতো। আধুনিক স্থপতি ও অন্দরসজ্জাবিদদের ছোঁয়ায় সেই কিচেন ও বাথরুম এখন বাসস্থানের বিশেষ স্বস্তিদায়ক ও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ত দিন শেষে বাড়ি ফিরে ক্লান্তি মোচনের প্রশান্তি কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একটু আয়েসি সময় কাটানো—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন চলে এসেছে বাথরুম। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী বদ্ধ রান্নাঘরের ধারণা বদলে উন্মুক্ত বা ‘ওপেন কিচেন’ সংস্কৃতি আধুনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই সামগ্রিক পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে আধুনিক স্যানিটারি সামগ্রী, হাইটেক ফসেট এবং বিশাল ক্যানভাসের টাইলসের অবাধ ব্যবহার। স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিনের সঙ্গে বিলাসবহুল লাইফস্টাইলের এক অপূর্ব সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক অন্দরসজ্জা।
টাইলস এবং স্যানিটারি ওয়্যার বাড়ি বা যেকোনো ভবনের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ঘরের ধরন, স্থায়িত্ব এবং আপনার বাজেটের ওপর ভিত্তি করে সঠিক উপাদান নির্বাচন করা উচিত।
বাথরুম কিংবা রান্নাঘরের স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক মেজাজ অনেকাংশেই নির্ভর করে সঠিক ফ্লোরিং ও দেয়ালসজ্জার ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে ‘লার্জ ফরম্যাট টাইলস’ বা বিশাল আকৃতির পোরসেলিন স্ল্যাব। ছোট ছোট টাইলসের বদলে বিশাল মাপের স্ল্যাব ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো, এতে ফ্লোর বা দেয়ালে জয়েন্টের দেখা মেলে খুব কম। ফলে সম্পূর্ণ জায়গাটিকে দৃশ্যত অনেক বেশি খোলামেলা, মসৃণ ও বাধাগ্রস্ততাহীন মনে হয়। দেয়াল ও মেঝের সাজে মার্বেল ফিনিশ টাইলস ঘরের আমেজ পুরোপুরি বদলে দেয়, যা এনে দেয় এক ঐতিহ্যের আবহে রাজকীয় অনুভূতি।
তবে শুধু নন্দন নয়, ভেজা জায়গায় মেটেরিয়াল নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে। বাথরুম কিংবা কিচেন পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে মেঝের জন্য ‘অ্যান্টি-স্কিড’ বা ঘর্ষণযুক্ত পিচ্ছিলরোধী ফ্লোর টাইলস ব্যবহারে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ জোর। এগুলো ভিজে থাকলেও হাঁটার সময় চমৎকার গ্রিপ দেয়, ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো সহজ হয়। অন্যদিকে দেয়ালের ক্ষেত্রে পছন্দ করা হচ্ছে ডেনস গ্লসি বা সূক্ষ্ম টেক্সচারের টাইলস, যা দ্রুত পরিষ্কার করা যায় এবং আর্দ্রতার প্রভাবে দাগ বা ছত্রাক পড়তে দেয় না। রান্নাঘরের চুলার পেছনের দেয়াল বা ব্যাকস্প্ল্যাশে এখন জিওমেট্রিক প্যাটার্ন, হ্যান্ডমেড লুক বা মোজাইক ডিজাইনের টাইলস ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পুরো ঘরের মধ্যে একধরনের শিল্প নান্দনিকতা এনে দেয়। হালকা রঙের টাইলসের বিপরীতে গাঢ় রঙের কন্ট্রাস্ট লাইটিং পুরো পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে।
আধুনিক অন্দরসজ্জায় টাইলসের পর বাথরুমের অন্যতম অনুষঙ্গ স্যানিটারি সলিউশন, যা কেবল উপযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক অদৃশ্য ঢাল হিসেবে কাজ করছে। ছোঁয়া ছাড়া ব্যবহারের সুবিধা দিতে ওয়াটার সেন্সর ফসেট বা স্মার্ট কলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। সংক্রামক রোগব্যাধি এড়ানোর এই যুগে হাত দিয়ে স্পর্শ না করেই পানি ব্যবহারের এই প্রযুক্তি যেমন জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, তেমনি অযথা পানির অপচয় রোধেও অত্যন্ত কার্যকর।
স্নানের অভিজ্ঞতায় আরামদায়ক অনুভূতির ছোঁয়া দিতে বাথরুমে জায়গা করে নিচ্ছে কনসিলড মিক্সচার ও বড় আকারের রেইন শাওয়ার। দেয়ালের ভেতরে প্লাম্বিং লাইন লুকিয়ে রেখে ওপর থেকে ঝরে পড়া প্রাকৃতিক বৃষ্টির মতো পানির ধারা পুরো বাথরুমকে দেয় একটি ক্লিন ও মিনিমালিস্ট লুক। আবার ডিজিটাল কমোড ও স্মার্ট টয়লেটের প্রবর্তন স্বাস্থ্যবিধির মানদণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এতে থাকা সেন্সরচালিত অটো-ফ্লাশ, অটোমেটিক সিট ওয়ার্মার, সমন্বিত ইউভি স্টেরিলাইজেশন এবং সেলফ-ক্লিনিং বিডেটের মতো সুবিধাগুলো সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্যবহারকারীকে দেয় তারকাঙ্কিত হোটেলের মতো স্বাচ্ছন্দ্য।