পান
পান

পান রপ্তানিতে বাধা, রপ্তানিকারক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার

বিভিন্ন অনিয়মের কারণে পান রপ্তানিকারক সমিতিকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, সুপ্ত ঘোষণা করায় সংগঠনটি কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ রোববার এক চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে পান রপ্তানি হ্রাস; রপ্তানিকালে অহেতুক কালক্ষেপণ; সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজির কারণে রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি; পানচাষিদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করা; পান রপ্তানিবাজার সংকুচিত হওয়া এবং যে উদ্দেশ্যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার বিপরীতমুখী কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতিকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সচিবালয়ে ৭ অক্টোবর বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পান রপ্তানিকারক সমিতিকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে শুনানি হয়।

শুনানিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি মো. ফজলুর রহমান জানান, পান রপ্তানিকারক সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানাবিধ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠার পর হতে সংগঠনটির সাধারণ সভা, বার্ষিক প্রতিবেদন কিংবা হালনাগাদ নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির তথ্য ফেডারেশনে দাখিল করেনি। এই শুনানিতে পান রপ্তানিকারক সমিতির কোনো প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না। তবে তারা সংগঠনটিকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করে। পরে শুনানিতে নানা পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে পান রপ্তানিকারক সমিতিকে সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দিন পর হলেও সরকার পান রপ্তানি বাড়াতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে রপ্তানিকারকেরা আগের মতো পান রপ্তানি করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ‘পান রপ্তানিকারক সমিতির লাইসেন্স আগেও দুবার বাতিল হয়েছিল। চার দশক ধরে বিএফভিএপিইএর অধীনে পান রপ্তানি হয়। পান রপ্তানির জন্য আলাদা করে কোনো সমিতির প্রয়োজন নেই। বরং সমিতির কারণে ৭০ শতাংশ পান রপ্তানি কমে গেছে। আমরা আশা করি, দ্রুতই এই বাণিজ্য সংগঠনটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে ‘সমিতির হাতেই জিম্মি পান রপ্তানি’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে তুলে ধরা হয়, পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতি বক্স পান রপ্তানির বিপরীতে নির্ধারিত হারে চাঁদা না দিলেই সমিতির সদস্যপদ থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান আর পান রপ্তানি করতে পারে না।