এএসবিএমইবির বাজেটে প্রস্তাব

প্রসাধনী শিল্পের সুরক্ষায় ‘সমান সুযোগ’ চান দেশীয় উদ্যোক্তারা

কসমেটিকস তথা প্রসাধনী শিল্পে সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এই খাতের স্থানীয় উৎপাদকেরা। এ জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রসাধনী খাতের কর ও শুল্ককাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি সরকারকে দেওয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানায় প্রসাধনী খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। সংগঠনটি বিদেশি প্রসাধনী পণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা দূর করে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় উৎপাদকদের মূল অভিযোগ হলো, শুল্ক নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে। তাঁরা জানান, বর্তমানে আমদানি করা বিদেশি কসমেটিকসের ক্ষেত্রে কেবল অভ্যন্তরীণ উপাদানের নিট ওজনের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক ধরা হয়। অথচ দেশীয় পণ্যের বেলায় সম্পূর্ণ মোড়কজাত পণ্যের বিক্রয়মূল্যের ওপর কর আরোপ করা হচ্ছে। এটিকে স্থানীয় শিল্পের জন্য বৈষম্যমূলক বলছেন তাঁরা।

এএসবিএমইবির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন বলেন, এই বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে দেশের নতুন এই শিল্প খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে। এতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও প্রায় ৭ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়তে পারে।

সরকারকে দেওয়া এএসবিএমইবির প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে একটি লিপস্টিক আমদানির ক্ষেত্রে কেবল তার ভেতরের ‘বুলেট’ বা মূল উপাদানের ওপর কর দিতে হয়। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সেই লিপস্টিকের খালি কনটেইনার বা মোড়ক আমদানি করে, তখন তাদের ১২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ শুল্ক গুনতে হয়।

স্থানীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, প্রসাধনী পণ্যের মূল উপাদানের তুলনায় অনেক সময় মোড়কের দাম বেশি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো পণ্যের মূল উপাদানের মূল্য যদি ৪০ শতাংশ হয়, তাহলে কনটেইনারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ। আমদানিকারকেরা এই মোড়কের ওপর শুল্ক ছাড় পেলেও স্থানীয় উৎপাদকদের তা পুরোটা বহন করতে হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে তাঁরা জানান, কাস্টমসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা একটি লিপস্টিকের মূল্য ধরা হয় মাত্র ৫২ টাকা ৯ পয়সা। এই মূল্যের ওপর কর আরোপ করা হয়। বিপরীতে স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি মানসম্মত লিপস্টিকের উৎপাদন খরচই পড়ে ৩৯০ টাকা ২০ পয়সা। এই উচ্চ খরচের ওপর আবার ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যমান করব্যবস্থার কারণে দেশীয় পণ্য বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই আসন্ন বাজেটে নিট ওজনের (নেট ওয়েট) ভিত্তিতে অভিন্ন করকাঠামো প্রবর্তন, কনটেইনার আমদানিতে শুল্ক কমানো ও দেশীয় শিল্প রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।