সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথের বিটিএমএ কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথের বিটিএমএ কার্যালয়ে

ভারতের সুতা আমদানিতে শুল্কারোপ না হলে বস্ত্রকল বন্ধ থাকবে: বিটিএমএ সভাপতি

ভারত থেকে সুতা আমদানি কমাতে শুল্কারোপ বা বন্ড–সুবিধা বাতিল না করা হলে আগামী মাস থেকে দেশের সব বস্ত্রকল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

শওকত আজিজ বলেন, ‘দেশের বস্ত্র খাত জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন স্টেট অব ইমার্জেন্সি। তাই প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা না পেলে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে আমরা কারখানা বন্ধ করে দেব।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে বিটিএমএ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর পরিচালক বাদশা মিয়া, চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ শোয়েব, বিটিএমএর সাবেক পরিচালক পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, রাজীব হায়দার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট করে লোকসান গুনতে গুনতে আমাদের পুঁজি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। অনেক উদ্যোক্তা তুলা আমদানির সক্ষমতা হারাতে বসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। নির্বাচিত সরকার এলে বর্তমান সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিফলন ঘটবে।’

সভাপতি শওকত আজিজ বলেন, গত এক বছরে সরকারকে বারবার এই পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। এ খাতে ২২–২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব বিনিয়োগ অচল হয়ে গেলে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এর প্রভাব খাতটির কর্মসংস্থানে পড়বে।

বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, ‘একদিকে দেশের স্পিনিং মিলগুলো করপোরেট কর, টার্নওভার কর ও ভ্যাট পরিশোধের চাপে রয়েছে। অন্যদিকে যদি সুতা আমদানিতে বন্ড–সুবিধা বাতিল না করা হয়, তাহলে আমরা কী বুঝব। দেশে যেন তুলা থেকে আমরা সুতা উৎপাদন করতে না পারি, তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত। তার অর্থ দাঁড়ায়, দেশে সুতা উৎপাদনের দরকার নেই। বাইরে থেকে তৈরি সুতা আমদানি করলেই চলবে। এটা কী ধরনের শিল্পনীতি? এখানে নীতিই পুরোপুরি উল্টো। সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ভুল নীতির কারণে যদি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তাদের কেন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে না?

শওকত আজিজ বলেন, ‘জিডিপিতে আমাদের খাতের অবদান ১৩ শতাংশ। অথচ এই খাতের সংকটে সরকার ১৩ মিনিট সময়ও দেয় না। সরকার বলে আমরাই অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। অথচ আমাদের জন্য সময় নেই।’